জাপানি টাকার জোয়ারে ভাসছে ভারত! ১০ বছরের টার্গেট কি ৩-৪ বছরেই ছুঁয়ে ফেলবে মোদী সরকার?

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির ওপর আরও একবার সিলমোহর পড়ল। মাত্র ১০ মাসের মধ্যে জাপানি সংস্থাগুলি ভারতে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে। যা গত বছর টোকিওর দেওয়া ১০ বছরে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির প্রায় ১৫ শতাংশ। সম্প্রতি টোকিওতে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান গতির কথা মাথায় রাখলে নির্ধারিত ১০ বছরের লক্ষ্যমাত্রার অনেক আগেই অর্থাৎ মাত্র ৩ থেকে চার বছরের মধ্যেই পুরো ৭ লক্ষ কোটি টাকার (১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন) প্রতিশ্রুতি সফলভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।

ভারতে জাপানি উপস্থিতি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
টোকিও সফরে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এর আগের দফায় জাপান ভারতে ১০ বছরে ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল এবং তা মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই সফলভাবে অর্জন করেছিল। এই দ্রুত পুঁজি প্রবাহের সাফল্যের ফলেই ২০২৫ সালের মধ্যে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতে কর্মরত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা ১,৫০০ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৩,০০০-এ উন্নীত করার একটি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

প্রচলিত উৎপাদন খাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার জাপানি সংস্থাগুলিকে ভারতের বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা এবং জাপানের সূক্ষ্ম প্রকৌশল বিদ্যার মেলবন্ধন ঘটাতে আর্থিক পরিষেবা, বীমা এবং পেনশন তহবিলের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন পীযূষ গোয়েল।

ডিপ টেক করিডোর ও দ্বিমুখী উদ্ভাবন সেতুর প্রস্তাব
টোকিওতে আয়োজিত ‘ভারত-জাপান স্টার্টআপ রাউন্ডটেবিল’-এ ভাষণ দেওয়ার সময় বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা, ডিপ-টেক উদ্ভাবন এবং বাণিজ্যিকীকরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বা ‘ধৈর্যশীল মূলধন’ (Patient Capital) আকর্ষণের উদ্দেশ্যে একটি ‘ডিপ টেক ক্যাপিটাল করিডোর’ তৈরির জোরালো প্রস্তাব পেশ করেন।

মূলধনী সংযোগ ছাড়াও তিনি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, ইনকিউবেটর, গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এবং পরীক্ষাগারগুলিকে সংযুক্ত করার জন্য একটি ‘দ্বিমুখী উদ্ভাবন সেতু’ নির্মাণের কথা বলেন। এছাড়া ভারতের বিশাল বাজার, প্রকৌশলগত প্রতিভা এবং উদ্যোক্তা শক্তির সঙ্গে জাপানের প্রযুক্তিকে একীভূত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় উদ্যোক্তা, জাপানি ভেঞ্চার ফান্ড এবং কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে একটি ‘যৌথ স্টার্টআপ পিচিং প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

ভারতের স্টার্টআপ মহাকাব্যের জয়জয়কার
অনুষ্ঠানে জাপানে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নাগমা মোহাম্মদ মল্লিক জানান যে, ভারত-জাপান পিচিং সিরিজের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৬৫টি ভারতীয় স্টার্টআপ প্রায় ১০০টি জাপানি কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং যার জেরে ৩০টিরও বেশি ফলপ্রসূ ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ডিপ-টেক স্টার্টআপগুলিকে উৎসাহিত করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে পীযূষ গোয়েল সম্প্রতি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় ‘ফান্ড অফ ফান্ডস’ চালুর ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এর আগে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রথম স্টার্টআপ তহবিলের হাত ধরেই বাজারে মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ এসেছিল। বর্তমানে ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছে। আজ থেকে ঠিক ১০ বছর আগে ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ প্রকল্প চালুর সময় দেশে যেখানে মাত্র ৫১০টি স্টার্টআপ ছিল, আজ তা বেড়ে ২,৫০,০০০০-এ পৌঁছেছে। যার মধ্যে ১৩০টিরও বেশি কোম্পানি এখন দেশের ‘ইউনিকর্ন’ ক্লাবের অন্তর্ভুক্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *