‘সবাই গোপনে ভয়ে কাঁপছেন!’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিল গেটসের সবচেয়ে ভয়ার্ত ও চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে ফের এক অত্যন্ত গুরুতর ও জোরালো সতর্কবার্তা দিলেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এআই যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে কর্মসংস্থানে নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মানবজীবনের সামনে এক বিশাল ও চরম ঝুঁকির কালো মেঘ ঘনাচ্ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
প্রযুক্তি শিল্পের গোপন ভীতি ও বিনিয়োগের অন্ধ দৌড়
বিল গেটসের মতে, বর্তমান প্রযুক্তি শিল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হওয়ায় বড় বড় সংস্থাগুলি এআই-এর অন্তর্নিহিত ঝুঁকিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছে। যাঁরা এই প্রযুক্তির আসল শক্তি ও উন্নতির গতিপ্রকৃতি খুব কাছ থেকে অনুধাবন করছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে চরম উদ্বিগ্ন।
কিন্তু ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং পুঁজি সংগ্রহের রাস্তা খোলা রাখতে টেক জায়ান্টদের শীর্ষকর্তারা প্রকাশ্যে এই ভয়ের কথা বলতে নারাজ। এ প্রসঙ্গে গেটস এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “তাঁরা এখন নিজেদের মধ্যে বলছেন: ‘আরে, এটা বলো না। এটা আমাদের জন্য খারাপ—আমরা যে পরবর্তী এক ট্রিলিয়ন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছি, তাতে এর প্রভাব পড়বে।’” এই অন্ধ প্রতিযোগিতার বদলে তাই আরও শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা, নতুন কর নীতি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
অতীতে যা হয়নি, এবার ঠিক তেমনটাই ঘটতে চলেছে
সাধারণত অতীতে যেকোনো প্রযুক্তিগত বিপ্লব বা অটোমেশন কিছু চাকরি খেলেও শেষ পর্যন্ত তার চেয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু বিল গেটসের মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে সমীকরণটা সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর সাফ কথা, এআই যুগ “সম্পূর্ণভাবে, একেবারেই, পুরোপুরি ভিন্ন।” কারণ, এই প্রযুক্তি যেভাবে মানুষের বিকল্প হয়ে উঠছে, তাতে কর্মসংস্থান হারানো কর্মীরা অন্যত্র নতুন কাজ পাওয়ার সুযোগ মারাত্মকভাবে হারিয়ে ফেলবেন।
নিজের পরিচিত ক্ষেত্র কোডিংয়ের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং উন্নত এআই টুলের (যেমন ক্লড-এর সক্ষমতা) উল্লেখ করে তিনি জানান, এই দ্রুত পরিবর্তন তাঁকে রীতিমতো ‘হতবাক’ করেছে। সরকারগুলি সময়মতো এই পরিবর্তনের মোকাবিলায় প্রস্তুত না হলে ব্যাপক বেকারত্ব অবধারিত বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
‘টোকেন ট্যাক্স’ এবং মানুষের জন্য সংরক্ষিত পেশা
এই মারাত্মক সংকট কাটাতে কিছু সুনির্দিষ্ট এবং যুগান্তকারী প্রস্তাব দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা:
এআই ট্যাক্স বা টোকেন ট্যাক্স: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যে সমস্ত সংস্থা মানব কর্মীদের ছাঁটাই করছে, তাদের ওপর বিশেষ কর চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এই কর থেকে সংগৃহীত রাজস্ব চাকরি হারানো মানুষদের সামাজিক সুরক্ষায় কাজে লাগতে পারে।
সংরক্ষিত পেশা: পরিচর্যা বা দেখভালের মতো বিশেষ কিছু পেশাকে ‘মানুষের জন্য সংরক্ষিত’ বা ‘হিউম্যান রিজার্ভড’ হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি, যাতে সেখানে এআই-এর আগ্রাসনে মানুষের রুটি-রুজিতে টান না পড়ে।
চাকরি হারানোর পাশাপাশি উন্নত এআই থেকে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন অণু বা জৈবিক অস্ত্র (Biological Weapons) তৈরির মতো মারণ ক্ষেত্রে এআই-এর অপব্যবহার রোধে বাধ্যতামূলক সরকারি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন বিল গেটস।