আলু-ধান চাষে লোকসান? হুগলির কৃষকদের কোটিপতি বানাতে মাঠে নামল কৃষি বিভাগ, শুরু হচ্ছে নতুন এই চাষ

হুগলি জেলা মানেই প্রথাগতভাবে ধান আর আলুর বাম্পার ফলন। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বাজারে লাভের মার্জিন কম থাকায় কৃষকদের এখন প্রথাগত চাষের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। আলুর মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও কম লাভের চাষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে হুগলিতে এবার জোর দেওয়া হচ্ছে বিকল্প এবং লাভজনক ‘সুপার ফুড’ মাখানা চাষে।
বর্তমানে জেলাজুড়ে উদ্যান পালন সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। সেই উপলক্ষেই কৃষকদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনার থেকে মাখানা চাষের নানান সুফল ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমহলে মাখানা চাষ তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও, সঠিক পদ্ধতি মেনে চাষ করতে পারলে এটি কৃষকদের জন্য বড় অংকের লাভের মুখ দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাখানা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য আলাদা করে উর্বর বা সমতল জমি তৈরির প্রয়োজন হয় না। জেলার যে সমস্ত নিচু জমিতে জল জমে থাকার কারণে অন্য কোনো ফসল ফলানো যায় না, সেই এক থেকে দেড় ফুট জমা জলেই খুব সহজে মাখানা চাষ করা সম্ভব। সবচেয়ে আকর্ষণীয়া বিষয় হল, একই জমিতে মাখানা চাষের পাশাপাশি মাছ চাষও করা যেতে পারে, যা কৃষকদের দ্বিগুণ আয়ের সুযোগ করে দেবে। হুগলি জেলার উদ্যান পালন আধিকারিক সামন্ত লায়েক জানিয়েছেন, মাখানার অপার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার একটি স্বতন্ত্র ‘মাখানা বোর্ড’ গঠন করেছে।
খাদ্যতালিকায় মাখানা বর্তমানে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে বেশ সমাদৃত। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার থাকে, অথচ চর্বির পরিমাণ অত্যন্ত কম। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজে ভরপুর এই খাবারটি ওজন কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকরী। বর্তমানে দেশীয় বাজার ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারেও মাখানার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য বিহার এই চাষে যেভাবে সাফল্য অর্জন করেছে, পশ্চিমবঙ্গও সেই পথেই হাঁটতে পারে। এই চাষে আগ্রহী কৃষকদের সমস্ত রকম সরকারি সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
আলু ও ধানের একঘেয়ে চাষ ছেড়ে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে মাখানার পাশাপাশি ক্যাপসিকাম, বিনস এবং বিভিন্ন ধরনের কপি চাষেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রিন হাউস তৈরি থেকে শুরু করে উন্নত মানের বীজ ও সার ক্রয়ের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় সাবসিডিও দেওয়া হচ্ছে, যা হুগলির গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে।