গঙ্গায় মিলছে না সুস্বাদু ইলিশ! উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের আবহাওয়া কীভাবে নষ্ট করছে বাঙালির ভোজনরসিক মন?

উত্তরপ্রদেশ-বিহারে বৃষ্টির ঘাটতির সরাসরি প্রভাব বাঙালির পাতে! গঙ্গায় কেন দেখা মিলছে না সুস্বাদু ইলিশের?
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, বছর দশেক আগেও বর্ষার সময় মালদা বা সংলগ্ন এলাকার মানুষ গঙ্গাপাড়ের ইলিশের স্বাদ বেশ উপভোগ করতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে গঙ্গায় যেন ইলিশ পাওয়া একপ্রকার রূপকথার গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে এই পরিস্থিতি আরও বেশি শোচনীয় রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ হলো উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া এবং আপার ক্যাচমেন্ট থেকে গঙ্গার জলের সঠিক প্রবাহ নিচে না নামা।
গঙ্গায় ইলিশ না পাওয়ার আসল কারণগুলি কী কী?
-
বৃষ্টির ঘাটতি ও জলের স্রোত: সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (সিফ্রি) মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, ইলিশের সঙ্গে নদীর জলের স্রোতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আপার ক্যাচমেন্টে বৃষ্টির অভাব এবং নদীর উজানে জলপ্রবাহ কম থাকায় বঙ্গোপসাগরের প্রতিকূল চাপে ইলিশের ঝাঁক ঠিকমতো গঙ্গায় ঢুকতে পারছে না।
-
নির্বিচারে ছোট ইলিশ শিকার: নদী বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, লাভের আশায় একশ্রেণির মৎস্যজীবী নদী থেকে ১৫-২০০ গ্রামের অত্যন্ত ছোট আকারের খোকা ইলিশও তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্র ও প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশের জোগান চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ: গঙ্গায় ইলিশের এই খরা কাটাতে এবং নদীমাতৃক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে এবার আসরে নেমেছে প্রশাসন। কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের ফরাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করতে মৎস্যজীবীদের সচেতন করার কাজ শুরু হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং, ফ্লেক্স ও লিফলেট বিলির পাশাপাশি প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং লোভ সংবরণই পারে গঙ্গায় ইলিশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে।