“নন্দীগ্রাম থেকে সোজা নবান্ন!”-শুভেন্দুর রাজনৈতিক সংগ্রাম এবার দূর্গা পুজোর মণ্ডপে

শারদোৎসবের দিনগুলো যত এগিয়ে আসছে, ততই শহর কলকাতার পুজো মণ্ডপগুলোতে শুরু হয়ে গেছে জোরকদমে প্রস্তুতি। প্রতিটি পুজো কমিটিই দর্শকদের নজর কাড়তে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হতে চায়। আর ঠিক এই জায়গাতেই এবার এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এবং রাজনৈতিক থিম নিয়ে বড়সড় চমক দিতে চলেছে কলকাতার একটি পুজো কমিটি।
এবারের দুর্গাপুজোয় কলকাতার রুবির মোড়ে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার পুজো মণ্ডপ সেজে উঠছে একেবারে অন্যরকম এক ভাবনায়। তাঁদের এই পঞ্চম বর্ষের পুজোর মূল থিম রাখা হয়েছে ‘নন্দীগ্রাম টু নবান্ন: বুবাইয়ের জয়যাত্রা’। এখানে ‘বুবাই’ বলতে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বোঝানো হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, উত্থান এবং সাফল্যের কাহিনীই এবার ফুটে উঠবে পুজোর প্যান্ডেলে।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী এই প্রসঙ্গে জানান, শুভেন্দুবাবুর ডাকনাম বুবাই। নন্দীগ্রামের মাটি থেকে তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের শুরু থেকে বর্তমান নবান্ন পর্যন্ত পৌঁছানোর পুরো যাত্রাপথকে তাঁরা এই থিমের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাইছেন।
মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমায় কী কী চমক?
-
আবক্ষ মূর্তি: পুজোর প্যান্ডেলের ভেতরেই রাখা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি বিশেষ আবক্ষ মূর্তি। এটি তৈরি করছেন কৃষ্ণনগরের খ্যাতিমান শিল্পী তরুণ পাল।
-
প্রতিমার মাটিতে চমক: পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পী বলাই পাল তৈরি করছেন সনাতনী প্রতিমা। তবে এই প্রতিমা গড়ার মাটিতে রয়েছে বড় আকর্ষণ। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, কালীঘাটের ঐতিহাসিক হিন্দু মহাসভা ঘাটের মাটি দিয়েই প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে।
-
রাজনৈতিক যাত্রার পসরা: প্যান্ডেলের সাজসজ্জায় থাকছে নন্দীগ্রামের সেই হাইভোল্টেজ অধ্যায়, পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ এবং তিনি যখন তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন সেই সময়কার রাজনৈতিক সাফল্যের বিভিন্ন মুহূর্ত। পুরো প্যান্ডেল জুড়ে টাঙানো থাকবে পোস্টার ও ব্যানার।
-
ম্যাগনিফাইং গ্লাসে মূর্তি: মুসুল ডালের উপর নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর একটি পূর্ণাঙ্গ ক্ষুদ্রাকৃতি মূর্তি। যা দর্শনার্থীরা মণ্ডপে ম্যাগনিফাইং গ্লাসের মাধ্যমে দেখতে পাবেন।
-
বিশেষ তথ্যচিত্র: পুজো উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি বা তথ্যচিত্র। পঞ্চমীর দিন পুজো উদ্বোধনের পর থেকেই তা লাগাতার চলতে থাকবে মণ্ডপ চত্বরে।
আমন্ত্রণ ও যোগাযোগের প্রস্তুতি
পঞ্চম বর্ষের এই পুজো উদ্বোধনের জন্য উদ্যোক্তারা গেস্ট অব অনার হিসেবে আমন্ত্রণ জানাতে চান খোদ শুভেন্দু অধিকারীকে। ইতিমধ্যে নবান্ন ও লোকভবনে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের হাতে এবং দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দলীয় কার্যালয়েও আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সাধারণ মানুষ বা শুভেন্দুপ্রেমীরা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কোনো বার্তা পাঠাতে চাইলে, তা সংগ্রহ করে সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করছে হিন্দু মহাসভা।
উল্লেখ্য, অতীতে এই সংগঠনের পুজোয় কিছু বিতর্ক তৈরি হলেও, এবার মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে সাজানো এই রাজনৈতিক থিম দর্শকদের কতটা টানে এবং জনমানসে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।