‘বিচারপতি আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার কে?’ হিজাবে নিষেধাজ্ঞায় ওয়েইসির মন্তব্যে বিতর্ক

হিজাব ইসলামের কোনো অপরিহার্য অঙ্গ নয়—এলাহাবাদ হাইকোর্টের এমন মন্তব্যের পর তীব্র আক্রমণ শানালেন এআইএমআইএম (AIMIM) সুপ্রিমো তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওভেসি। সরাসরি বিচারকদের একহাত নিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোন ধর্মীয় রীতি পালন করা উচিত বা কোনটা অপরিহার্য, তা ঠিক করার অধিকার আদালতের নেই।
সম্প্রতি এক স্কুলছাত্রী ক্লাসে ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছিল। সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, স্কুলে নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক এবং হিজাব ইসলামে কোনো অপরিহার্য অঙ্গ নয়। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ ছিল, কেবল ধর্মীয় যুক্তির দোহাই দিয়ে স্কুলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি লঙ্ঘন করা যায় না। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে সরাসরি ‘ইসলামের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন আসাদউদ্দিন ওভেসি।
দলে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওভেসি বলেন, ধর্মে কোনটা অপরিহার্য আর কোনটা নয়, তা বিচারকরা নির্ধারণ করার কে? সুপ্রিম কোর্টে যখন শবরীমালা সংক্রান্ত অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা নিয়ে শুনানি চলছে, সেই সময় হাইকোর্টের এমন রায় দেওয়া উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই রায় সরাসরি ভারতীয় সংবিধানের ১৯ এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
হিজাবের পক্ষে সওয়াল করে বিজেপি ও শাসক শিবিরকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন মিম প্রধান। তাঁর মতে, এই ধরনের রায় শেষ পর্যন্ত মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উত্তরপ্রদেশে মাধ্যমিক স্তরে মুসলিম ছাত্রীদের ভর্তির হার এমনিতেই কম উল্লেখ করে ওভেসি বলেন, এই ধরনের নিয়মের আড়ালে আসলে মেয়েদের পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত চলছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে ওই ছাত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ওভেসি আরও বলেন, ” মেয়েটি মাথায় হিজাব পরেছে, মনে নয়।” প্রসঙ্গত, ওই ছাত্রীর দাবি ছিল সে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই স্কুল ড্রেসের সঙ্গে হিজাব পরে আসছে, স্কুল কখনো আপত্তি করেনি। কিন্তু একাদশ শ্রেণীতে ওঠার পর বাধা দেওয়াতেই আইনের দ্বারস্থ হয় সে। তবে আদালতের রায় বহাল থাকায় হিজাব বনাম স্কুল ইউনিফর্ম বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।