শিক্ষার মন্দিরে আর নয় জাতের বিচার! স্কুল-কলেজের অ্যাডমিশন ফর্ম থেকে জাতিপ্রথা তুলে দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা!

স্কুল-কলেজের অ্যাডমিশন ফর্ম থেকে চিরতরে মুছবে ‘জাতি’র কলাম! হিমাচল সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
সমাজ থেকে জাতপাতের ভেদাভেদ ও বৈষম্য দূর করতে এক ঐতিহাসিক এবং সাহসী পদক্ষেপ নিল হিমাচল প্রদেশ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু ঘোষণা করেছেন যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের নার্সারি থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফর্ম (Admission Form) থেকে ‘জাতি’ বা ‘কাস্ট’ (Caste) সংক্রান্ত কলমটি পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে।
কেন এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? হিমাচল প্রদেশ তফসিলি জাতি কল্যাণ বোর্ডের বৈঠকের সভাপতিত্ব করার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষার মন্দিরে ভর্তি হওয়ার সময় কোনো শিশুর পরিচয় তার জাতির ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মনে যাতে কোনো ধরনের হীনম্মন্যতা বা জাতিগত ভেদাভেদের ভাবনা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি শিশুর মধ্যে পারস্পরিক ভাইচারা ও সমতার মনোভাব গড়ে তোলা।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা কি বন্ধ হয়ে যাবে? অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ফর্ম থেকে জাতির কলাম বাদ গেলে কি সরকারি স্কলারশিপ বা অন্যান্য সুবিধা পেতে সমস্যা হবে? এই বিষয়ে প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ভর্তির সাধারণ প্রক্রিয়ায় জাতি না থাকলেও, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, স্কলারশিপ বা সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার সময় যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে তথ্য প্রদান করতে পারবেন।
সামাজিক সমতার বার্তা দিয়ে হিমাচল প্রদেশ সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।