হারিয়ে যাওয়া আদিবাসী শিল্পে প্রাণের ছোঁয়া! ঝাড়গ্রামের এই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীর লড়াকু গল্প জানলে কুর্নিশ জানাবেন!

কংক্রিটের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া আদিবাসী শিল্পে প্রাণের ছোঁয়া, শিল্পীর রঙ-তুলিতে নতুন লড়াই!

আধুনিকতার রমরমা আর কংক্রিটের ইমারতের ভিড়ে যখন ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন ‘সহরায়’ চিত্রকলা প্রায় মুছে যেতে বসেছে, ঠিক তখনই পরম মমতায় তাকে টিকিয়ে রাখতে ময়দানে নেমেছেন এক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লোকশিল্পী। ঝাড়গ্রামের গর্ব মধুশ্রী হাতিয়াল একাই যেন এই মৃতপ্রায় পরম্পরাকে শহরের বুকে ফেরানোর পণ নিয়েছেন।

একসময় কার্তিক মাসে গো-বন্দনার সময় আদিবাসী গ্রামগুলির মাটির দেওয়াল সেজে উঠত এই অপরূপ চিত্রকলায়। রঙ আর রেখার মেলবন্ধনে সেখানে ফুটিয়ে তোলা হতো আদিবাসী জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক এবং পশুপালনের নানা গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাটির বাড়ির জায়গায় ইটের গাঁথনি আসায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে এই শিল্প। তবে এই সংস্কৃতিকে হারিয়ে যেতে দেননি মধুশ্রী। উৎসবের কদিন গৃহপালিত পশুদের যত্ন নেওয়া, ঘর-আঙিনা পরিষ্কার করে চালের গুঁড়ো দিয়ে বাহারি আলপনা আঁকা এবং সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বালানোর এই লোকায়ত ঐতিহ্যকে তিনি আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।

এই মৃতপ্রায় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রায় কুড়ি বছর আগে তিনি গড়ে তোলেন ‘মরমীয়া’ নামের একটি ট্রাস্ট। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়াও ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ এবং ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এই উদ্যোগ। প্রায় আট থেকে নয় হাজার মানুষ বর্তমানে এই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কংক্রিটের রুক্ষ দেওয়ালেও ফুটিয়ে তুলছেন আদিবাসী জনজীবনের আসল স্পন্দন। লোকসংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর এই নিরলস ও অসামান্য অবদান আগামী প্রজন্মের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *