নিষিদ্ধ বাজির রমরমা! ১০০ কেজি মশলা ও বাজি বাজেয়াপ্ত হতেই পুলিশি তৎপরতায় তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা

উৎসবের মরসুমের আগেই ফের একবার নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা এবং বজবজের বাজি বাজারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি ও বাজির মশলা উদ্ধার করা হয়েছে। গত রাতে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। মহেশতলার এসডিপিও-র নেতৃত্বে মহেশতলা ও বজবজ থানার পুলিশ যৌথভাবে এই তল্লাশি চালায়। পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপে বেআইনি বাজি ব্যবসায়ীদের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনেও এই ধরণের অভিযান জারি থাকবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এসডিপিও ধীমান মিত্র।

দত্তপুকুরেও হয়েছিল কড়া হানা
এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরেও অনুরূপ ছবি দেখা গিয়েছিল। চলতি মাসেই সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধার করেছিল পুলিশ। শুধু বাজি বাজেয়াপ্ত করাই নয়, বেআইনি বাজি তৈরির অপরাধে পরপর তিনটি কারখানাও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জের ওই অবৈধ কারখানাগুলিতে হানা দিয়ে প্রায় ১৭০০ কেজি নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও ৬০ কেজি বারুদ উদ্ধার করা হয়েছিল।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং আইন
পরিবেশবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, নিষিদ্ধ শব্দবাজির ফলে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি শব্দ উৎপন্ন হয়, যা বায়ুদূষণের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী বাজির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় ১২৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ তৈরি করে এমন বাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বর্তমানে শুধুমাত্র কম শব্দ ও কম ধোঁয়া উৎপন্নকারী পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বাজি’ ব্যবহারেরই আইনি অনুমতি রয়েছে। এই বাজিগুলি আসল কি না তা বোঝার জন্য প্যাকেটে নির্দিষ্ট কিউআর (QR) কোড ও বিশেষ লোগো থাকে। সাধারণত কালীপুজো বা দীপাবলির মতো উৎসবের দিনগুলিতে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য এই বাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

শব্দবাজির মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে সরকার বারবার এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিকট শব্দের জেরে শিশু ও বয়স্কদের চরম ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র শব্দ ও মানসিক চাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া এই প্রকট শব্দে গৃহপালিত পশু ও পাখিরাও তীব্র আতঙ্কে ভুগে থাকে। হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্যও এই ধরণের বাজি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় এই বেআইনি বাজি কারবারিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *