পুরুষ নার্সদের দাড়ি-গোঁফ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! মহিলাদের জন্যও কড়া বিধি, স্বাস্থ্য দফতরের নতুন ড্রেস কোডে হুলুস্থুল

সরকারি হাসপাতালের নার্সদের দ্রেস কোড (Nurse Dress Code) নিয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দফতরের (West Bengal Health Department) তরফে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করে নতুন পোশাকবিধি ও কড়া নিয়মকানুন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আর এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ।
সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার নার্সিং সুপারিটেনডেন্টের পোশাকবিধি না মানার দৃশ্য দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মন্ত্রীর সেই পরিদর্শনের পরেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর এবং এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়।
পুরুষ ও মহিলা নার্সদের জন্য কী কী নতুন নিয়ম?
স্বাস্থ্য দফতরের নতুন বিধি অনুযায়ী—
পুরুষ নার্সদের ক্ষেত্রে: স্টাফ নার্স গ্রেড টু মেল (Male Staff Nurse) কর্মচারীদের চুল অত্যন্ত ছোট করে কাটতে হবে। কোনোভাবেই দাড়ি বা গোঁফ রাখা চলবে না। পাশাপাশি, ডিউটির সময় তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে পা ঢাকা কালো জুতো পরতে হবে।
মহিলা নার্সদের ক্ষেত্রে: নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মহিলা নার্সদের ক্ষেত্রে ‘স্মল ক্যাপ’ বা ছোট টুপি পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও দাপ্তরিক পেশাদারিত্ব এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে ভারী কোনো অলংকার পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে নিয়মের কিছুটা ছাড় দিয়ে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র বিবাহিত নার্সরা শাঁখা-পলা এবং ছোট নাকের রিং পরতে পারবেন।
কোথায় আপত্তি নার্স সংগঠনগুলির?
স্বাস্থ্য দফতরের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন নার্স সংগঠন। নার্সেস ইউনিটির সম্পাদক ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সরকারি হাসপাতালের মহিলা নার্সরা অতীতে কখনও এই ধরনের টুপি পরেননি। করোনার আগে নার্সরা যে ‘ট্র্যাডিশনাল ট্রায়াঙ্গল ক্যাপ’ বা ত্রিভুজাকৃতির টুপি পরতেন, তার সঙ্গে এই নতুন স্মল ক্যাপের কোনো মিল নেই।
সংগঠনগুলির ক্ষোভ, স্বাস্থ্য দফতর ঠিক কোন ধরনের টুপির কথা বলছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। পাশাপাশি, করোনাকালে যে সার্জিক্যাল ক্যাপ ব্যবহারের চল হয়েছিল, সেটাই বহাল রাখার দাবি তুলেছেন অনেকে। নার্সদের প্রধান অভিযোগ, কোনো রকম যৌথ আলোচনা না করেই একতরফাভাবে এই নিয়ম তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজের বাস্তব পরিস্থিতি বিচার না করে জারি করা এই ড্রেস কোড নিয়ে ক্ষোভ প্রশমিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।