পুজোর পরেই কলকাতা ও হাওড়ায় বিরাট রাজনৈতিক লড়াই! পুরভোটের বাদ্য বাজা মাত্রই বড় মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির

বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোটকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। পুজো মিটলেই রাজ্যে পুরভোট হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই এখন থেকে কোমর বেঁধে ময়দানে নামার নির্দেশ দিয়েছে দল। এই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই পুরসভার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নামও চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়।

কাদের কাঁধে কোন দায়িত্ব?
মঙ্গলবার আয়োজিত এই বৈঠকে কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার দলের সমস্ত নেতৃত্ব ও বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন সুনীল বনসল, সুকান্ত মজুমদার এবং অমিতাভ চক্রবর্তীর মতো শীর্ষ নেতারাও। ভোটের আগে সংগঠনের ভিত শক্ত করা এবং প্রচারের রূপরেখা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী:

কলকাতা পুরভোট: এই গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুকান্ত মজুমদারকে। তাঁর সঙ্গে সহ-দায়িত্বে থাকছেন অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া আহ্বায়ক করা হয়েছে অভিজ্ঞ নেতা তাপস রায়কে, যাঁকে সাহচর্যের জন্য সাহায্য করবেন ঋতেশ তিওয়ারি।

হাওড়া পুরভোট: শিল্পনগরী হাওড়ার সম্পূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাহুল সিনহাকে। আর এই এলাকার আহ্বায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বালির বিধায়ক সঞ্জয় কুমার সিংকে।

পাশাপাশি, কলকাতার পুরভোটের জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তাপস রায়ের নেতৃত্বে এই কমিটিতে রয়েছেন সজল ঘোষ, ঋতেশ তিওয়ারি এবং স্বপন দাশগুপ্তের মতো হেভিওয়েট নেতারা। প্রচারকার্য চালানো, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনো, দলের সংকল্পপত্র তৈরি এবং সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি এই কমিটিই পরিচালনা করবে।

ভোটের ময়দানে একা লড়ার হুংকার
দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমানে দুটি সংস্থাই প্রশাসনিক বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর মাঝে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে সংশোধনী বিল পাস হওয়া এবং কলকাতার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার মতো ঘটনা রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আসন্ন পুরভোটে বিজেপি সম্পূর্ণ একাই লড়বে। রাজ্যে তাদের কোনো শরিক দল নেই, তবে রাজনৈতিক সৌজন্যের খাতিরে অন্যান্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতেই পারে।

সব মিলিয়ে, পুজোর আনন্দ মিটতেই যে নভেম্বরকে পাখির চোখ করে কলকাতা ও হাওড়াতে এক তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *