মুদিখানায় স্বস্তি আর আকাশছোঁয়া ভাড়া! ২০২৬ সালে কেমন চলছে ভারতীয় পরিবারগুলোর বাজেট?

চলতি বছরে ভারতীয় পরিবারগুলোর মাসিক খরচের চিত্রে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। হোম ক্রেডিট ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক সমীক্ষা ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ওয়ালেট ৪.০ ২০২৬’ অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় মুদিখানার খরচ ৮ শতাংশ কমলেও, মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়ি ভাড়া। এই ক্ষেত্রে খরচ একলাফে বেড়েছে ২১ শতাংশ। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী এবং গড়ে ৩৫ হাজার টাকা মাসিক আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চালানো এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক অন্যরকম অর্থনৈতিক বাস্তবতার ছবি।
খরচ কমল কোথায়, বাড়ল কোথায়?
পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে এখনও রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। মাসিক খরচের হিসেবে যার পরিমাণ ৮,৫০৫ টাকা বা মোট ব্যয়ের ২৫ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এই খাতে খরচ ৮ শতাংশ কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও গৃহস্থালি পণ্যের ওপর মিল থাকা জিএসটি ছাড়।
তবে ভাড়ার ছবিটা একদম উল্টো। চলতি বছরে বাড়ি ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাসে ৬,৯৬৫ টাকায়, যা পরিবারের মোট অপরিহার্য ব্যয়ের ২১ শতাংশ। অর্থাৎ একদিকে যখন মুদিপণ্যে খরচ কিছুটা কমছে, অন্যদিকে বাড়ি ভাড়া সেই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার পেছনেও খরচ বেড়েছে ১২ শতাংশ। বর্তমানে এই খাতে পরিবারগুলোকে মাসে ৬,৬০০ টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে অন্য খাতে টান পড়লেও শিক্ষাকে সর্বদাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জিএসটি ২.০-এর সুফল এবং সেভিংসের হিসেব
নতুন কর কাঠামোর প্রভাবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের। সমীক্ষা বলছে, গাড়ির ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমেছে। এছাড়া দু-চাকার যান, স্মার্টফোন এবং ঘরের নানা যন্ত্রাংশেও মিলেছে বড় ছাড়। তবে মানুষ অতিরিক্ত টাকা পেয়ে অন্ধের মতো খরচ করে ফেলছেন, বিষয়টি এমন নয়।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তারা খরচ বা সঞ্চয়ের পুরনো ধরনে কোনো পরিবর্তন আনেননি। বাকি ৩৯ শতাংশ মানুষ সাশ্রয় হওয়া অর্থ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে ১২ শতাংশ বেশি সঞ্চয় করছেন, ১২ শতাংশ খরচ করছেন ভালো মানের খাবারের পেছনে, এবং বাকিরা বিনিয়োগ করছেন সন্তান ও পরিবারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে।
সব মিলিয়ে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওঠানামার সাথে সাথে ভারতীয় পরিবারগুলো যেভাবে নিজেদের বাজেট গুছিয়ে নিচ্ছে, তা প্রমাণ করে যে জীবনযাত্রায় হুট করে বড় পরিবর্তন আনার চেয়ে সুদূরপ্রসারী ও স্থিতিশীল চিন্তাধারাই এখন মানুষের প্রধান পছন্দ।