IAS-IPS পদ থেকেও কি সরতে হতে পারে? ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় আর্জি কেন্দ্রের!

ওবিসি (OBC) প্রার্থীদের ‘ক্রিমি লেয়ার’ মাপকাঠির আওতায় শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের গত ১১ মার্চের রায় অতীতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটানোর আর্জি জানাল কেন্দ্র। এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন নিয়ে সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্র। কেন্দ্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করার সম্মতি দিয়েছে আদালত।

কেন্দ্রের প্রধান আশঙ্কা ও আইনি জটিলতা
ওবিসি-দের ‘ক্রিমি লেয়ার’ নির্ধারণের মাপকাঠি নিয়ে একটি উপযুক্ত নীতি তৈরি করতে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে দু’বছর সময় চেয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, গত ১১ মার্চের ‘রোহিত নাথান’ মামলার রায় কার্যকর করতে গিয়ে যে সমস্ত বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে, সেগুলিও আদালতের নজরে আনতে চায় সরকার।

কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা আদালতের রায়ের পুনর্বিবেচনা বা পরিবর্তন চাইছেন না। তবে এই রায়টি অতীতের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হলে বহু পুরনো ব্যাচের আধিকারিকদের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। অতীতে যাঁদের ‘ক্রিমি লেয়ার’ ওবিসি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাঁদের নতুন নিয়মে ‘নন-ক্রিমি লেয়ার’ হিসেবে পুনর্বিন্যাস করতে হলে সিভিল সার্ভিসে তাঁদের ক্যাডার, পদ এবং পরিষেবার অবস্থানেও বড়সড় বদল আনতে হতে পারে।

প্রশাসনিক অস্থিরতার আশঙ্কা
এর ফলে ইতিমধ্যেই বহু বছর ধরে আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS) এবং আইএফএস (IFS)-এর মতো উচ্চ পদে কর্মরত সমসংখ্যক প্রার্থীর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, এর জেরে প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আইনি জটও দেখা দিতে পারে।

আবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, উপযুক্ত নীতি ছাড়া এই রায় কার্যকর করা হলে কেন্দ্র ছাড়াও ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিয়োগ এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে রেল, ব্যাঙ্ক, ডাক বিভাগ এবং আধাসামরিক বাহিনীর মতো বড় বড় নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে লক্ষাধিক আবেদন ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ‘ইন্দ্রা সাহনি’ মামলার রায়ের পর ১৯৯৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র একটি অফিস মেমোরেন্ডাম জারি করে ওবিসি সংরক্ষণ থেকে ‘ক্রিমি লেয়ার’ বাদ দেওয়ার মাপকাঠি ঠিক করেছিল। চলতি বছরের ১১ মার্চের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ দেয় যে, ‘ক্রিমি লেয়ার’ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওই পুরোনো নিয়মেই পেশাগত শ্রেণিবিন্যাসকে ভিত্তি করতে হবে। তবে এই রায় অতীত ক্ষেত্রেও প্রয়োগের ফল কী হতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *