তেলের দাম কমতেই শেয়ার বাজারে বড় বদল, বিনিয়োগকারীদের মুখে কি হাসি ফুটল?

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় বুধবার সকালে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কিছুটা কেটেছে। যার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে সেনসেক্স এবং নিফটির গতিপ্রকৃতিতে।
এদিন লেনদেন শুরু হতেই বাজার ছিল চাঙ্গা। মুম্বই স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ২৯২.৩১ পয়েন্ট বা ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে যায় ৭৭,৯৪৮.৪০ পয়েন্টে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০ বেড়েছে ৩২.৬৫ পয়েন্ট বা ০.১৩ শতাংশ। সূচকটি ২৪,৩৬৭.২০ পয়েন্টে লেনদেন করছিল। এদিন সেনসেক্স ৭৭,৮৯২.১০ এবং নিফটি ২৪,৩৪১.৯৫ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শুরু করেছিল।
বাজার চাঙ্গা হওয়ার প্রধান কারণ অপরিশোধিত তেলের দাম কমা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভর ভারতীয় অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে প্রায় ৮৬ ডলারে নেমে আসায় দীর্ঘদিন ধরে চলা চাপ কিছুটা হালকা হয়েছে। পাশাপাশি, মার্কিন বন্ডের ফলন কমে ৪.৬৪ শতাংশে নামায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে ফের আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন।
এদিনের বাজারে কেবল প্রধান সূচকই নয়, বরং বৃহত্তর অংশেই ইতিবাচক ছবি দেখা গিয়েছে। নিফটি ১০০, নিফটি ২০০ এবং নিফটি ৫০০—সবকটি সূচকই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকগুলিও ভালো লাভ করেছে। খাতভিত্তিক সূচকে সবচেয়ে বেশি ১.৪২ শতাংশ লাফ দিয়েছে নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক। এছাড়া প্রাইভেট ব্যাঙ্ক, আর্থিক পরিষেবা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের শেয়ারেও ভালো কেনাকাটা হয়েছে। তবে এর মধ্যেও নিফটি আইটি, অটো এবং কনজিউমার ডিউরেবলস সূচকে কিছুটা দুর্বলতা বজায় ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে ডাব্লুটিআই ক্রুডের দাম ২.৩৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০.৪০ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুড ২.৪৭ শতাংশ কমে ৮৬.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তেলের দাম কমা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও বাজার বিশেষজ্ঞরা এখনই পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নারাজ। তাদের মতে, মেগাক্যাপ শেয়ারের প্রযুক্তিগত অবস্থান এখনও দুর্বল এবং বহু শেয়ারের মূল্যায়ন বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীদের এখনই অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা উচিত।