বরফের নীচে ৫০০ বছরের রহস্য! আন্দিজ পাহাড়ে মিলল যেন জীবন্ত ‘আইস মমি’, দেখলে শিউরে উঠবেন

দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালার কনকনে ঠান্ডা বরফের স্তরের নিচ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকদের হাতে এল এক অবিশ্বাস্য আবিষ্কার। প্রায় ৫০০ বছর আগের ইনকা সভ্যতার এক কিশোরীর মমি উদ্ধার করেছেন গবেষকরা। সবচেয়ে বড় কথা, শত শত বছর কেটে গেলেও এই মমিটির শরীরের প্রায় সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আজও একেবারে নিখুঁত ও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে! যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অক্ষত চুল, চামড়া ও শরীরের অঙ্গ:
সাধারণত প্রাচীন মমির ক্ষেত্রে কেবল কঙ্কাল বা শুকনো চামড়াই অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু আন্দিজ পর্বতের চরম ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ার জেরে এই কিশোরী মমির চুল, চামড়া এমনকি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোও (Internal Organs) এখনও অবিকৃত রয়েছে। তার গায়ে জড়ানো পশমের পোশাক এবং সঙ্গে থাকা গয়নাগুলো দেখে মনে হয় যেন এই তো সেদিনের তৈরি।

‘ক্যাপাকোচা’ প্রথা ও নরবলির লোমহর্ষক ইতিহাস:
ইনকা সংস্কৃতিতে পাহাড়কে অত্যন্ত পবিত্র দেবতা হিসেবে পুজো করা হতো। তীব্র খরা, আগ্নেয়গিরির লাভা উদগিরণ বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেবতাকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে ‘ক্যাপাকোচা’ (Capacocha) নামের এক বিশেষ পবিত্র প্রথা বা নরবলির রীতি পালন করা হতো।

ইতিহাস বলছে, এই লোমহর্ষক আচারের জন্য বেছে নেওয়া হতো সমাজের সবচেয়ে সুন্দর ও নিষ্পাপ শিশুদের। পাহাড়ের চূড়ায় বলি দেওয়ার আগে ওই কিশোরীকে কোকা পাতা এবং বিশেষ একধরনের মদ (Chicha) খাইয়ে দেওয়া হতো, যাতে কোনো রকম যন্ত্রণা ছাড়াই সে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। এরপর বরফের গুহায় দেবতার উদ্দেশে তাকে উৎসর্গ করা হতো।

3D প্রযুক্তিতে জীবন্ত হয়ে উঠল মুখ:
সম্প্রতি পোল্যান্ড ও পেরুর প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকরা এবং সুইডেনের বিখ্যাত ভাস্কর অস্কার নিলসন যৌথভাবে আধুনিক সিটি স্ক্যান, ডিএনএ পরীক্ষা এবং থ্রি-ডি প্রযুক্তির (3D Facial Reconstruction) সাহায্যে ‘জুয়ানিটা’ (Juanita) নামের সেই ইনকা কিশোরীর মুখাবয়ব জীবন্ত করে তুলেছেন। গবেষকদের মতে, এই থ্রি-ডি মুখটি দেখলে মনে হয় যেন ৫০০ বছর আগের হারিয়ে যাওয়া ইনকা সভ্যতার কোনো শিশু সরাসরি বর্তমান দুনিয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

বর্তমানে এই দুর্লভ মমিটি এবং তার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সোনা-রুপোর নান্দনিক মূর্তি ও মাটির পাত্রগুলি অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় (Minus Degree) একটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি নিছকই কোনো মমি নয়, বরং মানব ইতিহাসের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক রোমহর্ষক প্রাচীন বিশ্বাসের জীবন্ত দলিল, যা বর্তমানে গোটা বিশ্বের ইতিহাসপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *