সেনসেক্স রেকর্ড গড়ার পর কাটল ২ বছর! ভারতের শেয়ার বাজারে কী এমন ভয়ংকর বিপর্যয় এল? জানুন বিশদে

ভারতীয় শেয়ার বাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রেকর্ড উত্থানের অপেক্ষা যেন শেষ হওয়ার নয়। বেঞ্চমার্ক সেনসেক্স নতুন সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছানোর পর ইতিমধ্যে ৬৯৭ দিন বা প্রায় দুই বছর কেটে গিয়েছে। এর ফলে বিগত ২০১২ সালের পর থেকে সবচেয়ে খারাপ দুই বছরের রিটার্নের মুখে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার।
ইকোনমিক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৭ শতাংশ ট্রেডিং দিন নেতিবাচক দুই বছরের রিটার্ন নিয়ে শেষ হয়েছে, যা গত ১৪ বছরের মধ্যে অন্যতম উদ্বেগজনক স্তর। অপরিশোধিত তেলের মূল্যের লাগাতার অনিশ্চয়তা, দুর্বল বৈশ্বিক সূচক এবং মন্থর অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে ভারতীয় ইক্যুইটি বাজার মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে।
কেন এই দীর্ঘ পতন? বাজারকে কী কী বিষয় চাপে ফেলছে?
চলতি বছরে এশিয়ার সবচেয়ে কম পছন্দের স্টক মার্কেটের তালিকায় নাম লিখিয়েছে ভারত। মার্কিন-সংঘাতের জেরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯২ থেকে ১০০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি দ্রুত বিকাশমান ‘সুপার এল নিনো’-র প্রভাবে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বর্ষা মৌসুম দেখা দিয়েছে। ভারতের জিডিপির বড় অংশ ভোগের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতি বাজারকে আরও স্থবির করে তুলেছে।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে নিট বিক্রেতা হিসেবেই রয়েছেন। বাজার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের মতো বিদেশি মূলধন বেরিয়ে গেছে।
কী বলছে আশার আলো? কবে ঘুরবে বাজার?
এত সব নেতিবাচক খবরের মাঝেই আশার আলো দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির গতি ক্রমশ কমে আসায় এবং দেশীয় খুচরা বিনিয়োগকারীদের (DII) অটল আত্মবিশ্বাসের কারণে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে এফআইআই-রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভারতীয় শেয়ার কিনেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে এবং আয়ের ধারাবাহিকতা ফিরলে ভারতীয় বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার ফের একবার দেখা যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।