লোকসভার স্পিকারের নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, ২০ জন সাংসদকে জবাব দিতে হবে ৭ দিনে

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড়। দলত্যাগবিরোধী আইন সংক্রান্ত একটি মামলায় এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়লেন ২০ জন NCPI সাংসদ। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকাশ করা চিঠির কপি থেকে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর, যেদিন দেশের শীর্ষ আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল, ঠিক সেই দিনই স্পিকার অফিস থেকে এই নোটিসগুলি জারি করা হয়। নোটিস পাওয়ার পর আগামী ৭ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত সাংসদদের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা দলত্যাগবিরোধী আইনের আবেদন অনুযায়ী কেন তাঁদের সংসদ সদস্যপদ খারিজ করা হবে না, তার সুনির্দিষ্ট জবাব আলাদাভাবে স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময় সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতির এজলাসে জানান, স্পিকার অফিস থেকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। এরপর সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তৃণমূলের সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে শুরুতে জানানো হয় যে তাঁরা এই ধরনের কোনো নোটিসের বিষয়ে ওয়াকিবহাল নন। অন্যদিকে, বিকেলের দিকেও সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অবশেষে বুধবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নোটিসের একটি কপি জনসমক্ষে আনা হয়। এর ফলে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, বিচারপতির এজলাসে সলিসেটর জেনারেলের বক্তব্যের দিনই স্পিকারের দফতর থেকে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। এখন দেখার বিষয়, ৭ দিনের ডেডলাইনের মধ্যে ওই ২০ জন সাংসদ কী জবাব দেন এবং স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে কি আপনার আরও কোনো বিশেষ তথ্য জানার আগ্রহ রয়েছে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *