শিয়ালদা-বহরমপুর শাখায় আধুনিক হচ্ছে রেল পরিষেবা; প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও নতুন কাউন্টার চালুর বড় ঘোষণা পূর্ব রেলের!

যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং ট্রেন চলাচলের সঠিক সময় বজায় রাখার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল পূর্ব রেলের শিয়ালদা ডিভিশন। এর ফলে আরও আধুনিক ও মসৃণ হতে চলেছে শিয়ালদা-বহরমপুর শাখার রেল পরিষেবা। রেল সূত্রে জানা গেছে, ভগবানগোলা স্টেশনের দীর্ঘদিনের একটি জটিল পরিচালনাগত সমস্যার সফল সমাধান করা হয়েছে, যা এই রুটের যাত্রীদের যাতায়াতকে অনেক সহজ করে তুলবে।
এতদিন ধরে ভগবানগোলা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য পর্যাপ্ত না থাকায় লালগোলামুখী দূরপাল্লার ট্রেনগুলিকে—বিশেষ করে ১৩১০৩ শিয়ালদা-লালগোলা ভাগীরথী এক্সপ্রেস এবং ১৩১১৩ কলকাতা-লালগোলা হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস—একই প্ল্যাটফর্মে পরপর দু’বার থামাতে হতো। প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়ার কারণে বড় কামরার ট্রেন যাত্রীদের ওঠা-নামায় চরম সমস্যা তৈরি করত এবং এর ফলে ট্রেনের গতি কমে গিয়ে টাইম টেবিল বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ত। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শিয়ালদা ডিভিশন ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ৩৫০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৩৮৫ মিটার করেছে। এর জেরে এখন একবারেই পুরো ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে পারছে। পাশাপাশি, শেড নির্মাণ, নতুন টিকিট কাউন্টার (৩টি জেনারেল ও ১টি দিব্যাঙ্গ কাউন্টার) এবং আধুনিক শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে।
ভগবানগোলা ছাড়াও শিয়ালদা-বহরমপুর রুটের বেলডাঙা, মুর্শিদাবাদ, ভাবতা, জিয়াগঞ্জ ও পিরতলা স্টেশনেরও পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। বেলডাঙা স্টেশনের প্রথম শ্রেণির প্রতীক্ষালয় নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি বসার আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। শিয়ালদা ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন যে এই উন্নয়নমূলক কাজগুলি স্টেশন পরিষেবাকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি যাত্রীদের সামগ্রিক সফরকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তুলবে।
প্রধান হাইলাইটস:
-
ভগবানগোলা স্টেশনের সমস্যার সমাধান: প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ৩৫০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৩৮৫ মিটার করায় দূরপাল্লার ট্রেনগুলি এখন একবারে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে পারছে।
-
যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধি: নতুন টিকিট কাউন্টার, আধুনিক শৌচাগার এবং প্ল্যাটফর্মে শেড নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
-
অন্যান্য স্টেশনের আধুনিকীকরণ: বেলডাঙা, মুর্শিদাবাদ, জিয়াগঞ্জসহ একাধিক স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও প্রতীক্ষালয়ের মানোন্নয়ন করা হয়েছে।
-
সময়ানুবর্তিতা রক্ষা: পরিকাঠামোগত এই পরিবর্তনের ফলে ট্রেনের সময় ঠিক রাখা এবং যাত্রীদের যাতায়াত আরও মসৃণ হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।