বিনামূল্যে মিলত রক্ত, অথচ গরিব রোগীদের দিতে হত হাজার হাজার টাকা! পর্দার আড়ালে চলত কোন ভয়ংকর চক্র?

রক্তের অবৈধ কারবার ও দালালরাজ পুরোপুরি দমনে এবার অল আউট অ্যাকশনে নামল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা (Anti-Corruption Bureau)। রক্ত বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তদন্তে নেমে সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে দালালদের যোগসাজশের এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। বিনামূল্যে সংগ্রহ করা রক্ত অভাবী রোগীদের চড়া দামে বিক্রির অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানকে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তে নেমে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, এই চক্রের মূল ভিত্তি ছিল রক্তদাতাদের কার্ডের অবৈধ কেনাবেচা। দালালরা বিভিন্ন ক্লাব ও রক্তদান শিবিরের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রক্তদাতাদের বিনামূল্যে দেওয়া কার্ডগুলি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনে নিত। এরপর সেই কার্ড ব্যবহার করে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বিনামূল্যে রক্ত তুলে নেওয়া হত। পরবর্তীতে হাসপাতালে রক্তের সংকট রয়েছে অজুহাত দেখিয়ে সেই বিনামূল্যের রক্তই অসহায় রোগী ও তাঁদের পরিবারের কাছে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করা হতো। বিশেষ করে বিরল গ্রুপের রক্তের ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়া হতো।

সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই পুরো কারবারটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা হতো। নগদ লেনদেনের বদলে ডিজিটাল মাধ্যম অর্থাৎ ইউপিআই (UPI)-এর মারফত সরকারি হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে লাভের টাকা ভাগ করে নিত দালালরা। তদন্তে জানা গিয়েছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে হাসপাতালের ওই টেকনিশিয়ানদের কমিশন বাবদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এই চক্রের সন্ধান পাওয়ার পরই অভিযুক্ত তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানকে দুর্নীতি দমন শাখার দপ্তরে তলব করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন জেরা করার পর অবশেষে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রধান হাইলাইটস:

  • তিন ল্যাব টেকনিশিয়ান গ্রেফতার: রক্ত বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন শাখা।

  • বিনামূল্যে রক্ত তুলে বেআইনি ব্যবসা: রক্তদাতাদের কাছ থেকে কম দামে কার্ড কিনে তা দিয়ে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বিনামূল্যে রক্ত তুলে চড়া দামে বিক্রি করা হতো।

  • ইউপিআই মারফত লেনদেন: সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে দালালদের কমিশন ভাগাভাগির এই পুরো লেনদেনটি চলত সম্পূর্ণ ডিজিটালি, অর্থাৎ ইউপিআই-এর মাধ্যমে।

  • মোটা টাকার কারবার: রোগীর প্রয়োজনের ধরন ও রক্তের লভ্যতা বুঝে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো অসহায় পরিবারের কাছ থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *