ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওজন বৃদ্ধি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, ওবেসিটির দোরগোড়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা ও উদ্বেগ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, গত তিন বছরেরও কম সময়ে তাঁর ওজন প্রায় ১০ কেজির বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তাঁর বর্তমান ওজন ওবেসিটির বা স্থূলতার সীমার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে। গত মে মাসে প্রকাশিত একটি শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর ওজন প্রায় ১০৮ কেজি, যা ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে ছিল প্রায় ৯৭.৫ কেজি।

৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার এই রাষ্ট্রপ্রধানের বর্তমান বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই পৌঁছেছে প্রায় ২৯.৭-এ, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে ওবেসিটির ৩০ পয়েন্টের ঠিক সামান্য নিচে। ৮০ বছর বয়সি প্রেসিডেন্টের এই উল্লেখযোগ্য ওজন বৃদ্ধি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন অতীতে তাঁর পায়ের ফোলাভাব, হাতে ছোপ ছোপ দাগ এবং জনসমক্ষে ক্লান্ত বা ঝিমিয়ে পড়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের শারীরিক পরিবর্তনগুলো বিশেষ নজরের দাবি রাখে।

ওজন বাড়ার এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরাও। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়েট অ্যান্ড ওয়েলসের ডিরেক্টর স্কট কাহান জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ওজন কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং স্লিপ অ্যাপোনিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া লিভার, প্যানক্রিয়াস এবং হৃদপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর চারপাশে জমে থাকা ভিসারাল ফ্যাট বিপাকীয় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) প্রাক্তন কমিশনার ডেভিড কেসলার।

এদিকে, হোয়াইট হাউস বরাবরই প্রেসিডেন্টের সুস্বাস্থ্যের দাবি করে আসছে। গত মে মাসের মেডিকেল মূল্যায়নে তাঁকে ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী’ বলা হয়েছিল এবং তাঁর হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতাকে স্বাভাবিক বলা হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে ওজন কমানোর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করার পরামর্শ দিয়েছেন। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে তাঁকে ওষুধও দেওয়া হয়েছে। ফাস্টফুড এবং বিশেষ করে ম্যাকডোনাল্ডসের প্রতি ট্রাম্পের দুর্বলতা কারও অজানা নয়। তবে সম্প্রতি নিজের ওজন বৃদ্ধি নিয়ে রসিকতা করে তিনি নিজেই বলেছেন, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফটের রেকর্ড ভাঙতে চান না তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *