বিদায় তো দূর অস্ত, আরও ভয়ংকর রূপ নিয়ে ফিরছে বর্ষা! সেপ্টেম্বরে কি ভাসবে বাংলা?

ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে বর্ষা। এখনই বিদায় নেওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্ভাবাস দিয়েছে প্রশাসন। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) এবং ইসরোর অত্যাধুনিক INSAT-3DS স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত থার্মাল ইনফ্রারেড চিত্রে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে আবহাওয়াবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হয়েছে। স্যাটেলাইটের ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, দেশের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে শক্তিশালী মৌসুমী মেঘ জমাট বেঁধে রয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ভারত, গঙ্গার সমতলভূমি এবং পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যের ওপর ঘন ও উজ্জ্বল মেঘের একটি মোটা আস্তরণ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই মেঘগুলি গভীর কনভেকশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অর্থাৎ, দ্রুত বাতাস উপরের দিকে উঠে গিয়ে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তীব্র ঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি করছে। এর অর্থ পরিষ্কার, বর্ষা এখনও অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। যদিও আগের মতো এর সার্বিক বিস্তার ও তীব্রতা এক জায়গায় নেই, তবে যেভাবে নতুন করে মেঘ জমা হচ্ছে, তাতে সেপ্টেম্বরের প্রথম দু’সপ্তাহ পর্যন্ত একাধিক দফায় ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

INSAT-3DS স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, মধ্য ভারত থেকে শুরু করে বিহার, ঝাড়খণ্ড হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ পর্যন্ত ঘন মেঘের একটি দীর্ঘ ও বিস্তৃত বলয় অবস্থান করছে। ফলে এই সমস্ত রাজ্যে আগামী দিনে ভারী বৃষ্টির জোর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলার পাশাপাশি বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মতো পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও আগামী মাসের প্রথম পনেরো দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর জেরে নিচু এলাকাগুলিতে জলজমা এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তবে বৃষ্টির এই চিত্রটি সমগ্র দেশের জন্য একরকম নয়। পূর্ব ভারতে যেখানে নাগাড়ে বৃষ্টি চলতে পারে, অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের একটি বড় অংশ তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মৌসুমী বায়ুর গতিপথের আকস্মিক বদলের কারণেই এই আঞ্চলিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের কৃষকদের এর ফলে খরার আশঙ্কায় ভুগতে হতে পারে। আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী কয়েকদিন এই অসম বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বজায় থাকবে, যা কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনায় বড় প্রভাব ফেলবে।

দিল্লি-NCR অঞ্চলের ক্ষেত্রেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। স্থানীয় কনভেকশন প্রক্রিয়ার কারণে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেপ্র। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে দুর্যোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো উপকূলীয় জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুই জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। পাশাপাশি, রাজধানী কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও আগামী ৪৮ ঘণ্টা দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতার আকাশে সারাদিন মেঘ ও রোদের লুকোচুরি চললেও বিকেলের দিকে বা সন্ধ্যার পর আকস্মিক মুষলধারে বৃষ্টির জেরে জল জমে যাওয়ার চরম সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বেরোনোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *