দৈহিক পরিশ্রম ছাড়াই মিলছে খাঁটি ঢেঁকি ছাঁটা চাল! গ্রামের আনাচে-কানাচে সাড়া ফেলে দেওয়া এই অদ্ভুত যন্ত্রটি আসল কী?

গ্রামবাংলার চেনা ছবি মানেই কাঠের ঢেঁকিতে পা দিয়ে চাল ছাঁটার দৃশ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৈহিক পরিশ্রম ও আধুনিকতার প্রভাবে তা প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে আইআইটি খড়গপুরের তৈরি মডেলের ওপর ভিত্তি করে বাঁকুড়া ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকৌশলীরা যান্ত্রিক পরিবর্তন এনে তৈরি করেন এই ইলেকট্রিক ঢেঁকি।

বর্তমানে বাঁকুড়ার ছাতনা থানার দলপুর আশ্রমে এই ধরনের ১৪টি ইলেকট্রিক ঢেঁকি চালু রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল খাদি অ্যান্ড ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রি বোর্ডের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ রূপায়িত হয়েছে। আশ্রমের মহারাজ স্বামী মাধবানন্দ সরস্বতী জানান, খাদি বোর্ডের মাধ্যমে আসা এই ঢেঁকিগুলির সাহায্যে স্থানীয় আদিবাসী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা খুব সহজেই চাল তৈরি করছেন। খাটুনি কমে যাওয়ায় অল্প সময়ে অনেক বেশি পরিমাণ চাল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

পুষ্টিগুণ ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ চালের তুলনায় ঢেঁকি ছাঁটা চালে ভিটামিন বি-ওয়ান, ভিটামিন বি-সিক্স এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ভরপুর মাত্রায় থাকে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর ফলে রাজ্য ছাড়িয়ে বিহার, মহারাষ্ট্র ও ওড়িশার মতো ভিনরাজ্যেও এই চালের চাহিদা আকাশছোঁয়া। বর্তমানে পাইকারি বাজারে এই চাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কিলোগ্রাম দরে বিক্রি হচ্ছে এবং এর জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ (Key Highlights):

ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন: আইআইটি খড়গপুরের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে বাঁকুড়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ইলেকট্রিক ঢেঁকি তৈরি করেছে, যা সাড়া ফেলেছে সর্বত্র।

মহিলাদের কর্মসংস্থান: দলপুর আশ্রমে এই ঢেঁকি চালুর ফলে স্থানীয় আদিবাসী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা সহজেই স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য উপকারিতা: সুগার ও কোলেস্টেরল রোগীদের জন্য এই ঢেঁকি ছাঁটা চাল অত্যন্ত উপকারী হওয়ায় এর চাহিদা দেশজুড়ে বাড়ছে।

ভিনরাজ্যে প্রসার: পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার, ওড়িশা ও মহারাষ্ট্রের মতো বিভিন্ন রাজ্যে এই বিশেষ চাল ও ইলেকট্রিক ঢেঁকি সরবরাহ করা হচ্ছে।

Editor001
  • Editor001

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *