অন্নপূর্ণা যোজনায় অশান্তির নেপথ্যে কি?-BJP-র ভিতরেই অন্তর্ঘাতের দাবি শমীকের

রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢোকাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি অগাস্ট মাসে রাজ্যের যোগ্য উপভোক্তাদের একাংশের কাছে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে বলে সরকারিভাবে দাবি করা হলেও, বাস্তবে বহু মানুষ সেই টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভ এবং অসন্তোষের ছবি প্রকট হয়ে উঠেছে। টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মহিলারা কোথাও রাস্তা অবরোধ করছেন, আবার কোথাও বিডিও অফিস ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকায় ঢুকে পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
মহিলাদের এই বঞ্চনা ও বিক্ষোভের নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা অন্তর্ঘাত কাজ করছে বলে জোরালো দাবি তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। এই প্রসঙ্গে হাওড়ার এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন যে, এই প্রশাসনিক বিচ্যুতির আড়ালে রাজনৈতিক সাবোটাজ বা অন্তর্ঘাত চালানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, কিছু ক্ষেত্রে ফর্ম ফিলআপের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে গাফিলতি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তবে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তা যাতে দ্রুত তাঁদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পান, সেই বিষয়েও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে এবং কোনো ধরনের ভুয়ো লেনদেন এড়াতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ করবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে শাসক এবং বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতে বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, সমস্ত প্রয়োজনীয় যাচাই এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও কেন বহু নারী তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলেন? আগামী দিনে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে আন্দোলনের মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সব মিলিয়ে, উৎসবের ঠিক আগে অন্নপূর্ণা যোজনার এই অর্থবন্টন ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।