গভীর রাতে ভয়ঙ্কর গ্যাস লিক, নাগপুরের জল শোধনাগার থেকে বিষাক্ত ক্লোরিন ছড়িয়ে হাসপাতালে ৪০-এর বেশি মানুষ

ঘুমন্ত শহর তখন গভীর ঘুমে মগ্ন, ঠিক তখনই ঘটে গেল এক বড় বিপত্তি। সোমবার ভোরে নাগপুরের গোধনি এলাকার একটি জল শোধনাগার থেকে হঠাৎই মারাত্মক বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস লিক করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে সেই গ্যাস আশেপাশের জনবহুল আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়ায়। এই দুর্ঘটনায় প্ল্যান্টের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দা মিলিয়ে অন্তত ৪০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ মহারাষ্ট্র জীবন কর্তৃপক্ষের গোধনি জল শোধনাগার প্ল্যান্টে এই ঘটনা ঘটে। সেখানে থাকা প্রায় ৯০০ কেজি ধারণক্ষমতার একটি ক্লোরিন গ্যাস সিলিন্ডারে হঠাৎই লিকেজ দেখা দেয়। গ্যাস ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে-মুখে জ্বালা, তীব্র কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত তৎপরতা শুরু করে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফের (NDRF) বিশেষ দল। নিরাপত্তার খাতিরে প্ল্যান্টের আশপাশের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয় এবং আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অসুস্থ হয়ে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন জল প্ল্যান্টের কর্মী এবং বাকিরা স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্পর্স হাসপাতাল এবং মেয়ো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দমকল কর্মী, এনডিআরএফ এবং জল সরবরাহকারী সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সিলিন্ডারের লিকেজ বন্ধ করে সেটিকে কস্টিক সোডা ও জলের মিশ্রণে ডুবিয়ে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এই আকস্মিক ঘটনায় আতঙ্ক কাটছে না এলাকাবাসীর।