আসল নাকি নকল পনির খাচ্ছেন? অজান্তেই শরীরে বিষ ঢোকাচ্ছেন না তো! কীভাবে চিনবেন আসল পনির?

বাজার থেকে কিনে যে পনির খাচ্ছেন বা রেস্তোরাঁয় খাচ্ছেন, তাতে কোনো ভেজাল নেই তো? কম খরচে বেশি লাভের লোভে বাজারে বর্তমানে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে ‘অ্যানালগ’ বা কৃত্রিম পনির। খাঁটি দুগ্ধজাত পনিরের পরিবর্তে অজান্তেই এই ভেজাল ও কেমিক্যালযুক্ত পনির খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
কোথায় নিষিদ্ধ হলো এই পনির? সম্প্রতি ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ প্রশাসন (FDA) একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্লাউড কিচেনে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক বা কৃত্রিম পনির উদ্ধার করে। এরপরই এই তিন রাজ্যে ‘অ্যানালগ পনির’-এর উৎপাদন, বিক্রি, মজুত ও বিতরণের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলির মেনু কার্ডে বা বিলে কোথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকত না যে তারা খাঁটি না কি কৃত্রিম পনির পরিবেশন করছে।
ঠিক কী এই অ্যানালগ পনির? পুষ্টিবিদদের মতে, অ্যানালগ পনির দেখতে খাঁটি পনিরের মতোই এবং স্পর্শ করলেও তেমনই মনে হয়। কিন্তু আসল পনির যেমন দুধকে ছানা কেটে জল ঝরিয়ে তৈরি হয়, অন্যদিকে অ্যানালগ পনির তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় সস্তার ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেল, ক্যাসিন, বিভিন্ন কেমিক্যাল, স্টার্চ, স্ট্যাবিলাইজার এবং ইমালসিফায়ার। খাঁটি পনিরের স্বাদ ও আকার হুবহু নকল করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
শরীরের কী কী মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে?
-
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি: কৃত্রিম পনিরে থাকা হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল অয়েল ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে দেয়, যা ধমনীতে বাধা সৃষ্টি করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
-
পেটের সমস্যা: এতে থাকা স্টার্চ ও বিভিন্ন কেমিক্যালের কারণে পেটে গ্যাসের সমস্যা, অম্বল, পেট ফাঁপা, বমি ভাব বা ডায়েরিয়ার মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
-
ক্যানসারের ঝুঁকি: কৃত্রিম উপাদানের জেরে শরীরে ক্রনিক ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ হতে পারে, যা পরবর্তীতে ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
আসল ও নকল পনির চিনবেন কীভাবে? ১. গঠন ও গন্ধ: খাঁটি পনির আঙুলে চাপলে নরমভাবে সহজে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায় এবং এতে মিষ্টি দুধের সুবাস থাকে। অন্যদিকে নকল পনির রাবারের মতো চিবোতে হয়। ২. লেবেল চেক করুন: প্যাকেটবন্দী পনির কেনার সময় উপাদানের জায়গায় ‘দুধ ও দুগ্ধজাত ফ্যাট’ লেখা আছে কি না দেখে নিন। যদি ভেজিটেবল ফ্যাট বা স্টার্চ লেখা থাকে, তবে তা অ্যানালগ পনির। আইন অনুযায়ী প্যাকেটে ‘অ্যানালগ’ বা ‘আর্টিফিশিয়াল’ লেখা বাধ্যতামূলক। ৩. আয়োডিন পরীক্ষা (বাড়িতেই করুন): পনিরের ছোট টুকরো জলে ভালো করে ফুটিয়ে ঠান্ডা করুন। এরপর তাতে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন যোগ করুন। পনিরের রং যদি গাঢ় নীল বা বেগুনি হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে তাতে স্টার্চ বা আলুর গুঁড়ো মেশানো রয়েছে (অর্থাৎ এটি নকল পনির)। রং অপরিবর্তিত থাকলে তা খাঁটি।
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, ভেজাল পনিরের রমরমা থামাতে সাধারণ মানুষকেও আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং সবসময় বিশ্বস্ত দোকান থেকেই পনির কিনতে হবে।