অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে যাওয়ার ১৫ মাসের মধ্যেই ফের সচল জইশের হেডকোয়ার্টার! চাঞ্চল্যকর স্যাটেলাইট চিত্রে ফাঁস পাক ষড়যন্ত্র

গত বছর ভারতের নিখুঁত ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে সম্পূর্ণ ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) মূল ঘাঁটি। পাক পঞ্জাবের ভাওয়ালপুরে অবস্থিত সেই ‘মারকাজ সুভান আল্লাহ’ (Markaz Subhan Allah) সদর দফতর এবার অত্যন্ত গোপনে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা স্যাটেলাইট চিত্র এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে শোরগোল।

কীভাবে সাজানো হয়েছে জইশের নতুন ঘাঁটি? গত বছর মে মাসে ভারতীয় সেনার মিসাইল হামলায় যে ১৮ একরের সুবিশাল ক্যাম্পটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, তা এখন নতুন মার্বেল, তাজা রং এবং প্লাস্টারে একেবারে চকচকে করে তোলা হয়েছে। হামলায় উড়ে যাওয়া গম্বুজগুলি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় হলঘরের বিশাল গর্তগুলি ভরাট করে আগের ধ্বংসলীলার সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে যে, মূল কমপ্লেক্সের লাগোয়া মাদ্রাসা এবং জইশ কমান্ডারদের থাকার কোয়ার্টারগুলিও নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে এবং ক্যাম্পটি ফের পুরোদমে সচল হয়ে উঠেছে।

পাক মদদ ও বিপুল অর্থসাহায্য: গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নিষিদ্ধ জঙ্গি ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের জন্য পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সরাসরি মদদ জুগিয়েছে এবং জইশকে ২৫ কোটি পাকিস্তানি টাকা নগদ কিস্তিতে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে শুধু কেন্দ্রীয় হলঘরটি পুনর্নির্মাণের পেছনেই প্রায় ১১ কোটি টাকা ওড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তান যতই সন্ত্রাস দমনের কথা বলুক না কেন, রাষ্ট্রসংঘে নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনকে বাঁচাতে তাদের এই প্রত্যক্ষ সহযোগিতা আবারও প্রমাণিত করল যে পাকিস্তানের মাটি থেকেই কীভাবে মদদ পায় সন্ত্রাসবাদ।

কী হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ? উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৭ মে পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কড়া জবাব দিতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল। সেই সময় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মোট ৯টি প্রধান জঙ্গি আস্তানায় নিখুঁত হামলা চালায় ভারতের সশস্ত্র বাহিনী। যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভাওয়ালপুরের এই জইশ ঘাঁটি। সেই হামলায় জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের আত্মীয় সহ একাধিক শীর্ষ জঙ্গি খতম হয়েছিল। তবে পাক সেনার ৩১ কোরের সদর দফতরের ঠিক নাতিশীতোষ্ণ দূরত্বে অবস্থিত এই ক্যাম্পটি যেভাবে মাত্র ১৫ মাসের মধ্যে পুনরায় গড়ে তোলা হলো, তাতে ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী নতুন করে সতর্ক হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *