সাধারণ জ্বর ভেবে ভুল করলেই বিপদ! H1N1 সংক্রমণে মারাত্মক নিউমোনিয়া, দিল্লি-NCR জুড়ে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

বর্ষার মরশুমে সাধারণ সর্দি-কাশি বা ভাইরাল জ্বর বলে যাকে আমরা সচরাচর এড়িয়ে যাই, তা যে কতটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দিল্লির শিবেন্দ্রের ঘটনা। সামান্য ভাইরাল জ্বর ভেবে চিকিৎসা শুরু হলেও ১৫ দিন ধরে সুস্থ না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। শেষপর্যন্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে, মারণ H1N1 বা ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (Influenza A) ভাইরাসের সংক্রমণে তাঁর ফুসফুসে নিউমোনিয়া বাসা বেঁধেছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এই ঘটনা এখন বড়সড় চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে।

দিল্লি-NCR জুড়ে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ

শুধু শিবেন্দ্র একা নন, দিল্লি ও সংলগ্ন NCR অঞ্চলের একাধিক হাসপাতালে বর্তমানে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ নিয়ে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই হঠাৎ বৃদ্ধির নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা রয়েছে H1N1 ভাইরাসের। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (NCDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে একই সময়ের তুলনায় দিল্লিতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ অন্তত সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এই ধরনের প্রকোপ দেখা গেলেও এ বছর ঋতু পরিবর্তনের আগেই সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

১০ জনের মধ্যে ৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ!

হাসপাতালগুলির পরিসংখ্যান আরও বেশি উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ বা H1N1 পরীক্ষার জন্য আসা প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে প্রায় ৮ জনের রিপোর্টই পজিটিভ আসছে। ওপিডি (OPD)-র সাম্প্রতিক চিত্র বলছে, ২০ জন রোগীকে পরীক্ষা করা হলে ১৫-১৬ জনের শরীরেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলছে। ফরিদাবাদের বিভিন্ন হাসপাতালেও ফ্লু-সদৃশ উপসর্গের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগীই H1N1 পজিটিভ বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাসের এই আচমকা প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পরিবেশগত পরিবর্তন বা ভাইরাসের স্ট্রেনে কোনো বদল এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গবেষকরা।

একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত

এই সংক্রমণ শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং থাবা বসাচ্ছে পুরো পরিবারে। ফরিদাবাদের এক হাসপাতালে একই পরিবারের বাবা-মা একসঙ্গে H1N1 আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য একটি ঘটনায়, এক স্বাস্থ্যকর্মীর প্রথমে ছেলে এবং পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী ও খোদ ওই স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, সর্দি-কাশি ও উচ্চ জ্বরের মতো সাধারণ লক্ষণ দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা তীব্র কাশি, বুকে ব্যথা এবং চরম দুর্বলতায় রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে প্যারাসিটামল খাওয়ার পরেও যদি জ্বর না কমে, তবে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

কোন উপসর্গ দেখলেই হাসপাতালে ছুটবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ লক্ষণ হলে বাড়িতে চিকিৎসা সম্ভব হলেও কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা দিলে মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। লক্ষণগুলি হলো:

  • শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা হওয়া

  • রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা আচমকা কমে যাওয়া

  • বুকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া

  • হলুদ কফ-সহ কাশি কিংবা কফের সঙ্গে রক্তপাত

  • প্যারাসিটামল খাওয়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ উচ্চ জ্বর স্থায়ী হওয়া

বর্ষার এই মরশুমে সামান্য সর্দি-কাশি বা জ্বরকে আর অবহেলা নয়, বরং সচেতনতাই পারে এই মারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার হাত থেকে সুরক্ষা দিতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *