ইউরোপ থেকে এসে উজ্জয়িনে সনাতন মতে বিয়ে! রাম-সীতা নাম নিয়ে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন বিদেশি তিন জুটি

ধর্মীয় শহর উজ্জয়িনে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক অন্যরকম বিবাহ উৎসব। ভারত তো বটেই, সুদূর ইউরোপের তিন দেশের তিন জুটি সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সনাতন রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সম্পূর্ণ বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ এবং অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত পাক ঘুরে তাঁরা নতুন জীবন শুরু করেছেন।

ইন্দোর রোডের নিনোরা আনন্দের ওয়েলনেস রিট্রিট পার্কে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যোগগুরু ডঃ ওমানন্দ মহারাজ। তাঁর মাধ্যমেই মূলত বিদেশিরা ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন।

যেভাবে শুরু হয় এই যাত্রা
যোগগুরু ডঃ ওমানন্দ মহারাজের দেশ-বিদেশে যোগ ও আধ্যাত্মিকতার অনেক অনুসারী রয়েছেন। তিনি তাঁর শিষ্যদের ভারতীয় সংস্কৃতি এবং বৈদিক বিবাহের গুরুত্ব সম্পর্কে নিয়মিত শিক্ষা দেন। তাঁর এই শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে ইতালি, স্পেন ও ইংল্যান্ডের এই তিন দম্পতি সনাতন ধর্ম গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর পরেই উজ্জয়িনে আসেন তাঁরা।

বিয়ের আগে এই বিদেশি দম্পতিদের নতুন ভারতীয় নামকরণ করা হয়:

ইতালি থেকে আসা ইভা ও মাসিমিলিয়ানো নাম পান ‘দর্পণ আনন্দ’ ও ‘বলরাম আনন্দ’।

ইতালিরই অন্য এক জুটির জেসিকা ও লুকা নাম নেন ‘মা সীতা আনন্দ’ এবং ‘রাম আনন্দ’।

স্পেনের ইনমা এবং ইংল্যান্ডের মার্কের নতুন নাম রাখা হয় যথাক্রমে ‘মা শান্তি আনন্দ’ এবং ‘প্রকাশানন্দ’।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালে ইতালি, আমেরিকা ও পেরু থেকে আসা তিনটি দম্পতি ডঃ ওমানন্দ মহারাজের আশ্রমে সনাতন রীতি মেনে বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন।

ঐতিহ্যবাহী সব আয়োজন
বিয়ের মূল পর্বের আগে ভারতীয় আচার মেনে গায়ে হলুদ ও মেহেন্দি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে বর ও কনে পক্ষের বিদেশি অতিথিরা ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র ও স্তোত্রের তালে নেচে আনন্দ উপভোগ করেন। পুরো অনুষ্ঠানে বর-কনে এবং তাঁদের অতিথিরা ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে সেজেছিলেন। পরে বর্ণাঢ্য এক শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিয়ের মূল অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বরযাত্রীরা।

যোগগুরু ডঃ ওমানন্দ জানান, পশ্চিমা দেশগুলোতে বিবাহকে সাধারণত একটি আইনি চুক্তি হিসেবে দেখা হয়, যা সহজে ভেঙে ফেলা যায়। এর বিপরীতে ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিবাহকে কেবল দুটি মানুষের নয়, বরং দুটি আত্মার চিরন্তন মিলন মনে করা হয়। ভারতীয় সংস্কৃতির এই গভীর ভাবার্থই বিদেশিদের মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *