স্পাই স্যাটেলাইটের দিন শেষ! চিনের চোখ এড়িয়ে মহাকাশে ভারতের ওপর নজরদারি রুখবে কে?

পোখরান পারমাণবিক পরীক্ষার সময় বিদেশি স্পাই স্যাটেলাইট বা গোয়েন্দা উপগ্রহের চোখ এড়িয়ে কাজ করা ভারতের জন্য ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশের সেই চিত্রপট সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। বর্তমানে হাজার হাজার সামরিক, যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইট প্রতিনিয়ত পৃথিবীর কক্ষপথে চক্কর কাটছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের ওপর ঠিক কোন কোন দেশের উপগ্রহ নজর রাখছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

আর ঠিক এই জায়গাতেই এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটাতে চলেছে ভারতীয় স্পেস স্টার্টআপ ‘দিগন্তরা’। লাদাখের তীব্র ঠান্ডায় নিঃশব্দে কাজ শুরু করেছে তাদের তৈরি বিশেষ স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস সিস্টেম বা ‘মোজাইক’। এটি আকাশের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিজস্ব নজরদারি চালিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহাকাশের বস্তু, নক্ষত্র এবং কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে নিখুঁত পার্থক্য চিহ্নিত করতে সক্ষম।

প্রথাগত টেলিস্কোপ ব্যবস্থার মতো ‘মোজাইক’-কে আলাদা করে কোনও নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত এই সিস্টেমটি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের দৃশ্যসীমার মধ্যে আসা সমস্ত বস্তুকে শনাক্ত ও ট্যাগ করা শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একেকটি ইউনিট প্রতি রাতে প্রায় চারশো থেকে পাঁচশোটি পৃথক উপগ্রহ ও মহাকাশীয় বস্তুর গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে। এর ফলে বিদেশি নজরদারি উপগ্রহ কখন ভারতের আকাশ অতিক্রম করছে, তার নিখুঁত হিসেব রাখা এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।

প্রতিরক্ষা মহলের মতে, যেকোনও স্থান বা সামরিক কার্যকলাপ আড়াল করার আগে এটা জানা দরকার যে উপর থেকে ঠিক কে নজরদারি চালাচ্ছে। দিগন্তরার এই প্রযুক্তি ভারতের বর্তমান ‘নেত্র’ কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব মহাকাশ নজরদারি ক্ষমতাকে আরও বহুগুণ শক্তিশালী করবে। ফলে কক্ষপথে ভারতের আকাশসীমার ওপর উঁকিঝুঁকি মারা যেকোনও বিদেশি স্পাই স্যাটেলাইটের গোপন অবস্থান এ বার খুব সহজেই প্রকাশ্যে চলে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *