‘ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু’! ডুরান্ড ফাইনালের আগে রবীন্দ্রনাথে শরণাপন্ন মোহনবাগান কোচ

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি সম্পর্কে বোধহয় সম্যক অবহিত নন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ প্যানাগিওটিস ডিম্পেরিস। নইলে ডুরান্ড কাপ ফাইনালের প্রাক্কালে দলের বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি হয়তো গাইতেন— “ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু…।” মাত্র ছ’দিনে তিনটি ম্যাচ খেলার ধকল তো ইতিমধ্যেই রয়েছে, তার ওপর বাড়তি পাওনা হিসেবে যোগ হয়েছে শিলং থেকে সেমিফাইনাল খেলে কলকাতায় ফেরার পথে ফুটবলারদের চরম নাকাল হওয়ার ঘটনা। ফলস্বরূপ, রবীন্দ্রনাথের এই গানটিই এখন যেন মোহনবাগান সাজঘরের অদৃশ্য কলার টিউন হয়ে উঠেছে।

আর মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা বাদেই মর্যাদাপূর্ণ ডুরান্ড কাপের ফাইনাল। অথচ দলের ফুটবলাররা মারাত্মক ক্লান্তিতে ধুঁকছেন। স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ঠাসা ক্রীড়াসূচি ও শিডিউল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাগান কোচ। তবে হাজারো প্রতিকূলতা ও ক্লান্তিকে দূরে সরিয়ে ফাইনালে কাপ জয়ের প্রতিটি সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগাতে শিষ্যদের চাঙ্গা করতে কোনো কমতি রাখছেন না তিনি। ডার্বি দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্টের যেমন সূচনা হয়েছিল, তেমনই মহাবিস্ফোরণে ডার্বি দিয়েই এর সমাপ্তি হতে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে দুই প্রধান প্রতিপক্ষই নিজেদের দারুণভাবে গুছিয়ে নিয়েছে, আর তাদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ সমর্থকদের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। সেকথা মাথায় রেখেই পুরো দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে নানা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছেন গ্রিক কোচ।

বন্ধ দরজার আড়ালে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ম্যাচের আগের দিন অর্থাৎ শনিবার ক্লাবের মাঠে বন্ধ দরজার আড়ালে হালকা অনুশীলনে নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো ঝালিয়ে নিয়েছে মোহনবাগান শিবির। ট্যাকটিক্স বা রণকৌশলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দল সম্পর্কে নিবিড় বিশ্লেষণও সেরে রাখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বাগান কোচ প্যানাগিওটিস ডিম্পেরিস জানিয়েছেন, “এই ধরনের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবলারদের মানসিক অবস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিজেকে কীভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন, সেটাই আসল ব্যাপার। খেলোয়াড়দের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছি।”

গোল নষ্টের চিন্তা ও ইস্টবেঙ্গল বধের ব্লু-প্রিন্ট ডার্বি জয় দিয়ে ডুরান্ড অভিযান শুরু করলেও নকআউটের শেষ দুটো ম্যাচে সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের গোল নষ্টের প্রবণতা কিছুটা হলেও কোচকে ভাবাচ্ছে। যদিও তিনি রাখঢাক না করে প্রকাশ্যেই ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বরং গোল মিস করার পাশাপাশি গোলের সুযোগ তৈরির বিষয়টিকে বেশি ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি। একই সঙ্গে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের দারুণ পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি টাইব্রেকার বা নকআউটের লড়াইয়ে সুযোগ নষ্টের হার কমানোর ওপরও জোর দিয়েছেন।

প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কেও যাবতীয় হোমওয়ার্ক ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছেন বাগান কোচ। দলের ফুটবলারদের শেষ মুহূর্তের শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই তিনি চূড়ান্ত নীল-নকশা ছকতে চান। এমনকি দেজান দ্র্যাজিচের চোটের অবস্থাও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে নতুন ক্লাবে প্রথম খেতাব জয়ের যে তাঁর পাখির চোখ, তা সংবাদমাধ্যমের সামনে বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডিম্পেরিস।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *