LIC-তে দিনে ৯০ টাকা জমিয়ে, আজীবন ৮০,০০০ টাকা করে পাবেন এই স্কিমে

রিটায়ারমেন্টের পর যদি নিয়মিত হাতে কিছু টাকা আসে, বিশেষ করে ওষুধপত্র বা দৈনন্দিন খরচের চিন্তা যদি দূর হয়, তবে তা যে কারোর পক্ষেই স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে যাঁদের নির্দিষ্ট কোনো সরকারি পেনশন নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে অবসরের পরবর্তী জীবন অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্যের হতে পারে সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে। এই উদ্দেশ্যেই বহু মানুষ দীর্ঘমেয়াদী সেভিংস স্কিম বা জীবন বিমায় বিনিয়োগ করেন। আর এই তালিকায় অন্যতম ভরসাযোগ্য ও জনপ্রিয় একটি পলিসি হলো এলআইসি-র (LIC) ‘জীবন উমং’। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে এই পলিসি থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আকর্ষণীয় বার্ষিক ইনকাম পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কীভাবে কাজ করে এই পলিসি?
এলআইসি জীবন উমং হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী লাইফ ইনস্যুরেন্স পলিসি। যেখানে জীবন বিমার সুরক্ষার পাশাপাশি নির্দিষ্ট মেয়াদের পর থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা বা সারভাইভাল বেনিফিট পাওয়া যায়। এই পলিসির নিয়ম অনুযায়ী, একবার নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম দেওয়ার মেয়াদ শেষ হলে, পলিসি চালু থাকা অবস্থায় প্রতি বছর বেসিক সাম অ্যাসিওর্ডের ৮ শতাংশ হারে সারভাইভাল বেনিফিট দেওয়া হয়। পলিসিধারীর বয়স ১০০ বছর হওয়া পর্যন্ত এই আর্থিক সুবিধা মিলতে থাকে।
প্রিমিয়াম জমার ক্ষেত্রে পলিসিতে ১৫, ২০, ২৫ বা ৩০ বছরের অপশন থাকে। এছাড়া এতে ন্যূনতম বেসিক সাম অ্যাসিওর্ড হলো ২ লক্ষ টাকা।
দৈনিক ৯০ টাকার বিনিয়োগে মিলবে কত রিটার্ন?
ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সে ১০ লক্ষ টাকার ‘জীবন উমং’ পলিসি নিলেন এবং ৩০ বছরের প্রিমিয়াম পেমেন্ট টার্ম বেছে নিলেন। সেক্ষেত্রে তাঁর বার্ষিক প্রিমিয়াম দাঁড়াবে প্রায় ৩১,৬৩৩ টাকা অর্থাৎ মাসে প্রায় ২,৬৯৬ টাকা। সহজ হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিদিন মাত্র ৯০ টাকা আলাদা করে জমালেই এই প্রিমিয়ামের টাকা মেটানো সম্ভব। অনেক সময়ই আমরা দৈনন্দিন নানা ছোটখাটো অপ্রয়োজনীয় খরচে এই টাকা উড়িয়ে দিই। তার বদলে এই ধরনের সুরক্ষিত স্কিমে বিনিয়োগ করা অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।
এই উদাহরণের ক্ষেত্রে ৬০ বছর বয়স থেকে পলিসির সারভাইভাল বেনিফিট পাওয়ার পর্যায় শুরু হবে। ১০ লক্ষ টাকার বেসিক সাম অ্যাসিওর্ডের ওপর ৮ শতাংশ হিসাবে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ৮০,০০০ টাকা করে পেতে থাকবেন উপভোক্তা। পাশাপাশি পলিসির মেয়াদকালে পলিসিধারীর মৃত্যু হলে নমিনি এককালীন বড় অংকের টাকা পেয়ে যাবেন। এছাড়া আয়কর আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী প্রিমিয়ামের ওপর কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে যেকোনো আর্থিক স্কিমে বিনিয়োগের আগে সমস্ত শর্ত ভালোভাবে খতিয়ে দেখে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।