‘ভালোবাসা বাজারে বিক্রি হয় না!’ প্রয়াত রাহুলকে নিয়ে সম্পর্ক, মৌমিতাকে ধুয়ে দিলেন সুদীপ্তা

গত মার্চ মাসে তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে জলে তলিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই মৃত্যুরহস্য এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এই শোকের আবহ কাটতে না কাটতেই অভিনেত্রী মৌমিতা পণ্ডিতের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সিসি ক্যামেরার একটি গোপন ফুটেজ শেয়ার করে প্রয়াত রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন মৌমিতা। আর এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌমিতাকে একহাত নিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

ঠিক কী অভিযোগ সুদীপ্তার?

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করে মৌমিতার তীব্র সমালোচনা করেছেন সুদীপ্তা। তাঁর স্পষ্ট কথা, প্রেম অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি বিষয় এবং তা ব্যক্তিগত রাখাই বাঞ্ছনীয়, বিশেষ করে যখন সেই সম্পর্কের পক্ষে বা বিপক্ষে বলার জন্য রাহুল আজ আর বেঁচে নেই। সুদীপ্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিনেতার একটি ছোট ছেলে রয়েছে, যে তার বাবাকে চিরকালের মতো হারিয়েছে। এছাড়া রাহুলের মা, দাদা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং তাঁর একদা বিবাহিত স্ত্রী প্রত্যেকেই যখন এই শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেই সময়ে এমন একটি পোস্ট করে মৌমিতা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

সুদীপ্তার কথায়, ‘বাবিন যদি সত্যিই তোমাকে ভালোবেসে থাকে, তাহলে তো তাঁর আশপাশের মানুষগুলোর কথা তোমার ভাবা উচিত ছিল। সম্মান ছাড়া ভালোবাসা তো হয় না ভাই, ভালোবাসার ভান হয়।’ তাঁর মতে, ভালোবাসা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার না করে প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যুর তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি জরুরি ছিল।

তদন্ত নিয়ে বড় প্রশ্ন ও পরামর্শ

মৌমিতাকে সরাসরি কটাক্ষ করে সুদীপ্তা প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি চাইলে তো থানায় গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানতে পারতেন বা রাহুলের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারতেন। সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে তার প্রমাণ মিলত লড়াইয়ে এবং প্রয়াত মানুষের সম্মান রক্ষার মধ্যে। পোস্টের শেষে মৌমিতাকে পরামর্শ দিয়ে সুদীপ্তা লিখেছেন, একটু বড় হতে এবং সৃজনশীল কাজে মন দিতে। সবমিলিয়ে, প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যুর কয়েক মাস পর এই নতুন সমীকরণ ও সহকর্মীদের আক্রমণ ঘিরে এখন উত্তাল টলিপাড়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *