বেসরকারি সংস্থার হাতেই এবার রকেট তৈরির ভার! ২০৩৩ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে বড় ঘোষণা IN-SPACe প্রধানের

রকেট ও স্যাটেলাইট তৈরি থেকে সরে আসছে ISRO, উৎপাদনের ভার সম্পূর্ণ বেসরকারি সংস্থার হাতে
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: এতদিন ধরে ভারত যে সমস্ত স্যাটেলাইট বা মহাকাশযান মহাকাশে পাঠিয়েছে, তার সিংহভাগই তৈরি করত ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন বা ISRO। তবে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী বদল আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। এবার থেকে রকেট, লঞ্চ ভেহিক্যাল, স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক স্পেস সিস্টেম তৈরির কাজ থেকে সরে আসছে এই শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। এই সমস্ত কাজ এবার পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও শিল্পোদ্যোগীদের হাতে।
এই বড় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ?
কেন্দ্রীয় সরকারের দূরদর্শী লক্ষ্য হলো—২০৩৩ সালের মধ্যে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিকে (Space Economy) ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা। সেই লক্ষ্য পূরণে এবং মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ বৃদ্ধি করতেই এই অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার (IN-SPACe)-এর চেয়ারম্যান ডক্টর পবন গোয়েঙ্কা हाल हीতে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ISRO আর কোনও লঞ্চ ভেহিক্যাল তৈরি করবে না। এবার থেকে এই ধরনের সমস্ত কাজ করবে বেসরকারি খাত বা পাবলিক সেক্টর ইউনিটগুলি (PSU)।”
উৎপাদন থেকে গবেষণা: এই পরিবর্তনের ফলে ISRO-র ভূমিকা সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে। রকেট বা স্যাটেলাইটের মতো রুটিন বাণিজ্যিক উৎপাদনের কাজ থেকে সরে এসে ISRO এবার পুরোপুরি মনোনিবেশ করবে জটিল ও গভীর মহাকাশ গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বিজ্ঞানসম্মত অভিযান এবং উন্নত পরিকাঠামো তৈরির কাজে।
যেভাবে শুরু হচ্ছে রূপান্তর
ইতিমধ্যেই এই রূপান্তরের কাজ শুরু হয়ে গেছে। স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল (SSLV)-এর সমস্ত প্রযুক্তি এবং উৎপাদনের অধিকার প্রতিযোগিতামূলক বিডিংয়ের মাধ্যমে হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী রকেট LVM3 এবং জনপ্রিয় PSLV-র মতো হেভি-লিফট লঞ্চ ভেহিক্যাল তৈরির দায়িত্বও ধাপে ধাপে বেসরকারি সংস্থার হাতে স্থানান্তরিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ ভারতের মহাকাশ শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।