গেরুয়া উত্তরীয় পরে বিধানসভায় কুণাল ঘোষ! তবে কি তৃণমূলে ভাঙন নাকি নতুন সমীকরণ?

বিধানসভায় গেরুয়া উত্তরীয় গায়ে জড়িয়ে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক জল্পনা। তবে সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি খাঁটি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী এবং তাঁর একমাত্র নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী ঘটেছিল বিধানসভায়? জানা গেছে, বিধানসভায় কুণাল ঘোষের সঙ্গে বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতার সাক্ষাৎ হয় এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। এমনকি তাঁকে একটি গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় এবং একসঙ্গে তালের বড়া খাওয়ার মুহূর্তও সামনে আসে। এর পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, তবে কি রং বদলাতে চলেছেন কুণাল?
এই বিষয়ে সমস্ত গুঞ্জনে জল ঢেলে কুণাল ঘোষ জানান, ‘‘আমি নির্ভেজাল তৃণমূল। আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকজন ব্যক্তি গেরুয়া পোশাক পরে আমার কাছে আসেন, কথা বলেন এবং ছবি তোলেন। আমাকে উত্তরীয় পরিয়ে দিতে চান। আমার কোনও ছুৎমার্গ নেই যে উত্তরীয় পরলে আমার জাত চলে যাবে। ওনারা আমার উল্টো মতের হলেও আমরা একসঙ্গে তালের বড়া খেয়েছি।’’
অন্যান্য ইস্যুতেও কুণালের আক্রমণ শুধু নিজের পরিধান নিয়ে বিতর্ক নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়েও সরব হয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাঁরা হামলা চালিয়েছে এবং যারা এর পেছনে উসকানি দিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দেরিতে টনক নড়ার সমালোচনাও করেন তিনি।
পাশাপাশি, দেশের বাজারে চিনির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতি ও ইথানল উৎপাদনের বিভ্রান্তিকর কৌশলের কারণেই সাধারণ মানুষকে অগ্নিমূল্যে চিনি কিনতে হচ্ছে এবং দ্রব্যমূল্যের খাঁড়ায় পড়তে হচ্ছে।