মুখের উপর পরিচালক বলেছিলেন ‘গানটা ফালতু’! তারপর যা করলেন আর ডি বর্মন, তা আজও ইতিহাস

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র রাহুল দেব বর্মন বা সকলের প্রিয় ‘পঞ্চমদা’। তাঁর সুরের জাদুতে বুঁদ হয়ে থেকেছে গোটা দেশ। কেরিয়ারে অজস্র হিট গান উপহার দেওয়া এই কিংবদন্তি সুরকারই জীবনের শেষ পর্বে এসে কাজ পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছিলেন। একসময়ে বলিউড কাঁপানো মানুষটিই যেন ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন। আর সেই শেষ কাজ হিসেবেই এসেছিল ১৯৯৪ সালের কালজয়ী ছবি ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’-র গান।
যেভাবে সুযোগ এল: ‘পরিন্দা’ ছবিতে আর ডি বর্মনের কাজ পছন্দ হয়েছিল পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়ার। নতুন ছবির জন্য তিনি শান্ত ও ক্লাসিক্যাল ধাঁচের মিউজিক চাইছিলেন, আর সেই কারণেই যোগাযোগ করেন পঞ্চমের সঙ্গে। কিন্তু শুরুতে ছবির গান নিয়ে বাধে বিপত্তি। পরিচালক লক্ষ্য করেন, আজকালকার ট্রেন্ড মেনে দ্রুত লয়ের বা কমার্শিয়াল গান তৈরির চেষ্টা করছেন আরডি বর্মন, যা দেখে রেগে যান বিধু।
পরিচালকের সোজা কথা ও আবেগঘন মুহূর্ত: এক সাক্ষাৎকারে বিধু বিনোদ চোপড়া স্মৃতিচারণা করে জানান, তিনি আরডি বর্মনকে সোজাসুজি বলেছিলেন, “আজকাল কী গান বানাচ্ছেন! আমি এসডি বর্মনের মতো গান খুঁজছি। উনি তো নেই, আমার বিশ্বাস আপনিই দেশের সেরা। কিন্তু আপনি আমাকে যা দিচ্ছেন, তা বাজে।” পরিচালক আরও বলেছিলেন, “দাদা, এটা আপনি নন। সঙ্গীতই কথা বলে। এটা ঠিক নয়।”
পরিচালকের এই মুখের ওপর সত্য কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পঞ্চমদা। তিনি জানতে চান, তিনি আর সঙ্গীত করতে পারছেন কি না। বিধু তাঁকে ভরসা দিয়ে জানান, কাজটি নিখুঁত করার জন্য তিনি এক বছর সময় দিতে প্রস্তুত। এই ঘটনায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কিংবদন্তি সুরকারও।
জন্ম নিল ‘কুছ না কহো’র ইতিহাস: এর ঠিক পরের সপ্তাহেই ম্যাজিক ঘটে। হারমোনিয়াম নিয়ে হাজির হন পঞ্চমদা এবং ‘কুছ না কহো’ গানটির প্রথম নোট বাজাতেই চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলেন পরিচালক। বাবার (এসডি বর্মণ) একটি সুরের ছোঁয়া দিয়ে তৈরি সেই প্রথম নোটটিকেই আরডি বর্মন ভালোবেসে বলতেন ‘বাপ কা মাল’। আর এর পরের বাকি ইতিহাস তো সকলেরই জানা—যা বলিউড তথা ভারতীয় সঙ্গীত জগতে চিরকালের মতো অমর হয়ে রয়েছে।