বর্ষায় ছাগল মারা যাচ্ছে? অভিজ্ঞ চাষির এই সহজ টিপসগুলো মানলেই এক টাকাও লোকসান হবে না!

বর্ষাকাল মানেই যেমন স্বস্তির পরশ, তেমনই কৃষকদের জন্য এটি বাড়তি চিন্তার সময়। বিশেষ করে ছাগল পালনকারীদের জন্য এই ঋতুতে বাড়তি সতর্কতা না নিলেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, জল জমে থাকা এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে বর্ষায় ছাগলের নানা রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে খামারিদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন বসিরহাটের আকিপুরের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ছাগল চাষি জালালউদ্দিন নূর।
১. ঘর শুকনা ও পরিষ্কার রাখা: বর্ষার সময়ে ছাগলের ঘর সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘরের মেঝেতে যেন কোনোভাবেই জল না জমে এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। ভেজা বা কাদাযুক্ত জায়গায় ছাগলকে দীর্ঘক্ষণ রাখা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
২. খাবারের মান ও বিশুদ্ধ জল: বৃষ্টিতে ভেজা, পচা বা ছত্রাক ধরা ঘাস ও খাবার কোনোভাবেই ছাগলকে দেওয়া যাবে না। সবসময় পরিষ্কার, শুকনো খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘাস কেটে আনলে তা ভালো করে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
৩. রোগবালাই ও টিকাকরণ: এই সময়ে ছাগলের পেটের সমস্যা, সর্দি-কাশি এবং চর্মরোগের মতো সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। শরীরে সামান্য দুর্বলতা, খাওয়ায় অরুচি বা পাতলা পায়খানা দেখলে দেরি না করে অবিলম্বে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি, নিয়মিত কৃমিনাশক ও প্রয়োজনীয় টিকাকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ সতর্কতা: জালালউদ্দিন নূরের মতে, বর্ষায় ছাগলকে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো কারণে ভিজে গেলে দ্রুত তাদের শুকনো জায়গায় সরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে ছোট ছাগল ও গর্ভবতী ছাগলের যত্ন নিতে হবে দ্বিগুণ। ঘর নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখলে রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একটু সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যাই পারে বর্ষার মরসুমে ছাগল খামারিদের বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে।