হাত দিলেই ছ্যাঁকা লাগছে চিনিতে! লাফিয়ে দাম বাড়ার আসল কারণ ফাঁস করল সরকার

সামনে কড়া নাড়ছে উৎসবের মরসুম। আর তার ঠিক মুখেই দেশের বাজারে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। গত এক মাসের ব্যবধানে খোলা বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে সোজা পৌঁছে গেছে প্রায় ৫৫ টাকায়। চিনির এই নাগালের বাইরে যাওয়া দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যখন ক্ষোভ বাড়ছে, তখন এর নেপথ্যে ইথানল উৎপাদনই দায়ী বলে দাবি করেছিল ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে শুক্রবার এক সরকারি বিবৃতিতে সেই সমস্ত জল্পনা ও দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইথানল তৈরির জন্য চিনি অন্য খাতে ঘুরিয়ে দেওয়ার কারণে দাম বাড়ছে – এই তথ্য পুরোপুরি ভুল ও ভিত্তিহীন। সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে উৎপাদিত চিনির প্রায় ১২ শতাংশ ইথানল তৈরিতে ব্যবহার হলেও, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা কমে নেমে এসেছে মাত্র ৯ শতাংশে। বর্তমানে দেশের মোট ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বা ৭৫ শতাংশই আসে ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য থেকে। ফলে আখের ওপর চাপ আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।
তাহলে হঠাৎ কেন এই মূল্যবৃদ্ধি? কেন্দ্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হওয়া, প্রতিকূল আবহাওয়ায় আখের ফলন মার খাওয়া, উৎসবের মরসুমে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীদের বেআইনি মজুতদারির কারণেই বাজার চড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির জোগান কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়েই এই সংকট তৈরি হয়েছে, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও।