যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগকারী প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারের জীবনাবসান, বয়স হয়েছিল ৮০ বছর

১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তথা প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমার প্রয়াত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

হাসপাতালে মৃত্যু ও স্বাস্থ্যগত জটিলতা: বৃহস্পতিবার সকালে তিহার বা সংশ্লিষ্ট জেল থেকে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মধ্যে ‘অলটার্ড সেন্সোরিয়াম’-এর লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। এছাড়া তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও পারকিনসন্সের মতো বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের শতচেষ্টা এবং লাইফ-সাপোর্ট দেওয়া সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি; বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের মধ্যে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক পুত্র রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্টে তাঁর প্যারোলের দাবি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি নির্ধারিত ছিল।

আইনি লড়াই ও দাঙ্গার প্রেক্ষাপট: ২০১৮ সালে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। পালাম কলোনির কাছে রাজ নগরে উন্মত্ত জনতাকে নেতৃত্ব দিয়ে পাঁচজন শিখকে হত্যা এবং একটি গুরুদুয়ারায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়েছিল। যদিও ২০১৩ সালে প্রাথমিক বিচারে তিনি এই মামলা থেকে খালাস পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে দাঙ্গা-সংক্রান্ত আরেকটি হত্যা মামলায় তিনি পুনরায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন সাজা পান। চলতি বছরের শুরুতে দাঙ্গা-সংক্রান্ত আরেকটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেলেও অন্যান্য মামলায় তাঁর সাজা ভোগ অব্যাহত ছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁরই দুই শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সেই মর্মান্তিক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯৭৭ সালে দিল্লির নাংলোই থেকে পুর কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা সজ্জন কুমার একসময় দক্ষিণ বা ‘আউটার দিল্লি’ লোকসভা কেন্দ্রের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *