বনে বসেই ২২,৬০০ কোটির সোনার খনি! হিমাচলের নতুন মাস্টারপ্ল্যানে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

রাজ্যের বন ও পশুপাল অর্থনীতিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বড় পদক্ষেপ করল হিমাচল প্রদেশ সরকার। আধুনিক প্রযুক্তি, উপাত্ত এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদী সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বন বিভাগ এবং ইন্ডিয়ান স্কুল অফ বিজনেসের ভারতী ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক পলিসি (ISB-BIPP)-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঠাকুর সুখবিন্দর সিং সুখুর উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

চুক্তির মূল দিক ও আধুনিক প্রযুক্তি
উভয় পক্ষের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘কাউন্টিং গ্রিন ওয়েলথ’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমাচলের অরণ্যে প্রধানত পাঁচটি প্রধান জৈবিক সম্পদ রয়েছে, যেগুলির বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্পদের মোট সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২২,৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গুজবেরির আনুমানিক মূল্য ৮,৭০০ কোটি, পাইন পাতার মূল্য ৫,৫০০ কোটি, বুনো আম ৪,৮০০ কোটি, বছরের বীজ ২,৪০০ কোটি এবং রোডোডেনড্রন ফুলের মূল্য ১,২০০ কোটি টাকা।

এই বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে:

বন অর্থনীতি ও গোষ্ঠীভিত্তিক উদ্যোগ: বনজ পণ্য সরাসরি প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করার জন্য স্থানীয় গ্রামবাসী ও নারীদের দ্বারা পরিচালিত উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, পাঙ্গির পীর পাঞ্জাল ফরেস্ট প্রোডিউসার কোম্পানি বর্তমানে থাঙ্গি বা হ্যাজেলনাট ব্যবসায় সফলভাবে কাজ করছে।

ফরেস্ট ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম: স্যাটেলাইট চিত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি পালামপুর বন বিভাগে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

চারণভূমি পোর্টাল ও মেষপালক ডেটাবেস: হিমাচল প্রদেশ মেষপালক নীতি ২০২৬-এর অধীনে একটি বিশেষ পোর্টাল তৈরি করা হবে। এটি আধার, হিম পরিবার, ভারত পশুধন এবং ‘পহল’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি: বন বিভাগের কর্মী এবং স্থানীয় অংশীজনদের তথ্য-ভিত্তিক বন ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোগ পরিচালনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর প্রভাব
পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্রামীণ জীবিকার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। অতীতে পাইন গাছের ঝরে পড়া পাতা জঙ্গলে ভয়াবহ দাবানলের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াত। কিন্তু এখন থেকে সেই পাতাকেই জ্বালানি বা হস্তশিল্পের কাজে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, হরিতকি, বেল এবং থাঙ্গির মতো স্থানীয় ঔষধি গাছপালা চাষ ও সংগ্রহ করে গ্রামীণ জনপদের মানুষ সরাসরি নিজেদের আয় বাড়াতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল হিমাচলের অর্থনৈতিক ছবিটাই বদলে দেবে না, বরং দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও এটি একটি দারুণ মডেল হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *