পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ! তিনদিনের সফরে এসে কী বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

সীমান্তে জমি জট নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ অমিত শাহ
তিন দিনের রাজ্য সফরে এসে সীমান্ত সুরক্ষা এবং জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে সরব হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ারে গিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন এবং জওয়ানদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সহযোগিতা নিয়ে বড় মন্তব্য করেন তিনি।
অমিত শাহের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু:
-
জমি না পাওয়ার অভিযোগ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ২০১৪ সাল থেকে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ১১২৯ একর জমি চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে তা পাওয়া যায়নি। এমনকি সেই সময় বারবার আবেদন করেও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
-
শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা: অনুষ্ঠানে সীমান্ত সুরক্ষার কাজে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরই সীমান্ত সুরক্ষার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে যা চাওয়া হয়েছে, তা দ্রুত পাওয়া গিয়েছে।
-
কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা: এসএসবি-র অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারের নয়, বরং তারা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করে।
-
রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা: পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়াও, এদিনের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে এবারের লালকেল্লায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীত পরিবেশিত হয়েছে, যা এক নতুন পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সপ্তধারা’র কথা উল্লেখ করে দেশের যুব সম্প্রদায়কে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই শানিত আক্রমণ ও মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।