প্রশ্নপত্র ফাঁসে যুববিক্ষোভ নিয়ে বড় বার্তা আরএসএসের! কাঠগড়ায় কোন প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি?

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সর্বভারতীয় সমন্বয় সভায় দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি ও বেশ কিছু সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস, জনসংখ্যার ভারসাম্যের অভাব এবং মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান প্রবণতার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া সমাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা দিক উঠে এসেছে।

সভায় জানানো হয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং তার জেরে যন্তর মন্তরে যুবকদের তীব্র প্রতিবাদ আসলে এক গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ফল। নিট সহ অন্যান্য সমস্ত পরীক্ষার ত্রুটিগুলো দূর করে ব্যবস্থার আমূল উন্নতির ওপর জোর দিয়েছে সংঘ। শুধু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে পরীক্ষার মানোন্নয়নে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এবারের সমন্বয় সভায় আমন্ত্রিত ৩২৬ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৩০৬ জন অংশ নেন, যার মধ্যে ৪৯ জন মহিলা প্রতিনিধিও ছিলেন। বৈঠকে দেশের জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একদিকে সমাজে বয়স্ক মানুষের হার বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জন্মহার হ্রাসের ফলে সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, বর্তমান প্রজন্মে মাদকের নেশার ক্রমবর্ধমান গ্রাস রুখতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও জোরালোভাবে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তির প্রসারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পজিটিভ ও নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়।

আরএসএস জানিয়েছে, দেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুবসমাজের ওপর। বর্তমানে সংঘের শাখায় অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশই তরুণ। তবে কেবল যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী বা শাখার সদস্যরাই নন, দেশের প্রায় ৩৫ কোটি তরুণ-তরুণীর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করা এবং তাদের দেশের উন্নয়নে সামিল করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সংগঠনগুলোকেও এই কাজে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *