বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় পেছন থেকে ডাকলে সত্যিই কি অশুভ কিছু হয়? জানুন জ্যোতিষ ও বিজ্ঞানের আসল সত্য

ছোটবেলা থেকেই আমরা বড়দের মুখে শুনে আসছি, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় পেছন থেকে ডাকতে নেই। বিশেষ করে পরীক্ষা, ইন্টারভিউ কিংবা কোনো নতুন ও শুভ কাজে যাওয়ার সময় কেউ পিছন থেকে ডাকলে স্বাভাবিকভাবেই রেগে যান গুরুজনরা। বিশ্বাস করা হয়, এতে নাকি যাত্রা অশুভ বা ‘যাত্রা ভঙ্গ’ হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর পেছনে কি সত্যিই কোনো বাস্তব ভিত্তি আছে, নাকি পুরোটাই নিছক কুসংস্কার?

জ্যোতিষ ও বাস্তুশাস্ত্র কী বলছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে কোনো গ্রহের কুপ্রভাব না থাকলেও মনস্তত্ত্ব ও শক্তি বিজ্ঞানের গভীর যোগ রয়েছে। যখন আপনি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা সংকল্প নিয়ে ঘর থেকে বেরোন, তখন আপনার মন ও শরীর সেই দিকেই স্থির থাকে। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে হঠাৎ ডাক পড়লে একাগ্রতা বা ফোকাস ভেঙে যায়। মন বিক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফেলে যাওয়া কিংবা পথে দুর্ঘটনার মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া বাস্তুশাস্ত্র মতে, ঘরের প্রধান দরজা দিয়ে বেরোনোর সময় শরীরের ইতিবাচক শক্তি সামনের দিকে প্রবাহিত হয়। পেছন ফিরে তাকালে সেই শক্তির প্রবাহ বাধা পায়, যা যাত্রার ফল নষ্ট করতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।

ভুল করে ডেকে ফেললে প্রতিকার কী?
যদি অজান্তেই এমন ঘটনা ঘটে যায়, তবে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। শাস্ত্রে এর সহজ প্রতিকারের কথাও বলা হয়েছে। ভুলবশত পেছন থেকে কেউ ডেকে ফেললে যিনি বাইরে যাচ্ছেন, তিনি সামান্য সময়ের জন্য থেমে যাবেন। এরপর এক ঢোক জল খেয়ে কিংবা এক চিমটে দই-চিনি মুখে দিয়ে নিজের ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করে পুনরায় নতুন করে যাত্রা শুরু করা উচিত। এতে সমস্ত অযাত্রা দোষ কেটে যায় এবং মন ফের শান্ত হয়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, তাড়াহুড়োর সময় অমনোযোগিতা এড়াতেই মূলত পূর্বপুরুষরা এই নিয়মগুলো তৈরি করেছিলেন। তাই কুসংস্কার ভেবে উড়িয়ে না দিয়ে একটু সচেতন থাকাই শ্রেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *