UPI-এ কি এবার অতিরিক্ত চার্জ? ২ হাজারের বেশি লেনদেনে MDR চালুর তোড়জোড়!

ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এক বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া উঠতে চলেছে। সম্প্রতি একটি আর্থিক গণমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই দুই হাজার টাকা কিংবা তার বেশি অংকের ইউপিআই (UPI) লেনদেনের ওপর মারচেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) চার্জ চালু হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই মর্মে খুব শীঘ্রই অফিসিয়াল গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে গত কয়েক বছর ধরে চলে আসা ডিজিটাল পেমেন্টের জিরো এমডিআর নীতিতে বড়সড় সংশোধন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অফ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস বা আর্থিক পরিষেবা বিভাগের মাধ্যমে সরকার এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রকাশিত তথ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ওই গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কিছু ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হতে পারে, যেগুলি এমডিআর নিয়মের আওতাভুক্ত হবে। এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ সার্ভিস স্টিয়ারিং কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটিই মূলত প্রস্তাবিত শুল্কের সঠিক কাঠামো, পরিধি এবং রেট নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।

প্রসঙ্গত, এমডিআর বা মারচেন্ট ডিসকাউন্ট রেট হলো সেই নির্দিষ্ট ফি, যা ব্যাংক এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডাররা ডিজিটাল ট্রানজাকশন প্রসেস করার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেটে নেয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারত সরকার ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ইউপিআই এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে জিরো এমডিআর নীতি চালু করেছিল। তার আগে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ওপর ০.৩ শতাংশ পর্যন্ত ফি ধার্য করা হতো। বর্তমান প্রস্তাবিত থ্রেশহোল্ড-ভিত্তিক ব্যবস্থাটি বাস্তবায়িত হলে তা সার্বজনীন এমডিআর ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত না দিলেও, বর্তমান নীতির একটি আংশিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এতে কোনো প্রত্যক্ষ আর্থিক বোঝা চাপবে না বলেই সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, qualifying লেনদেনগুলির জন্য যে এমডিআর-ই প্রবর্তন করা হোক না কেন, তা কোনোভাবেই সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হবে না। ব্যবহারকারীরা আগের মতোই কোনো রকম অতিরিক্ত বা ট্রানজাকশন ফি ছাড়াই দৈনন্দিন ইউপিআই পেমেন্ট চালিয়ে যেতে পারবেন। এমনকি ২০২৬ সালের ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাসের সময়ও সংসদে এই মর্মে সরকারি আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। এই আইনটি ২০০৭ সালের পেমেন্টস অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট সংশোধন করে নির্দিষ্ট সীমার উপরের ডিজিটাল লেনদেনে এমডিআর প্রবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছে।

এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর ডিজিটাল ট্রানজাকশনের খরচ কিছুটা বাড়লেও গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার সচেতন রয়েছে। সরকারের এই নীতিগত পদক্ষেপ ডিজিটাল অর্থনীতির ইকোসিস্টেমে কীভাবে প্রভাব ফেলে এবং এনপিসিআই নেতৃত্বাধীন কমিটি ঠিক কী ধরনের রেট স্ট্রাকচার ঘোষণা করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির পরেই এই বিষয়ে সমস্ত ধোঁয়াশা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *