আদালতের সমন এড়ানোর অভিযোগ! কৃষ্ণনগর আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন মহুয়া মৈত্র?

কৃষ্ণনগর আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য সংক্রান্ত একটি মামলায় বারবার সমন পাওয়ার পরও আদালতে হাজির না হওয়ার অভিযোগে গত বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেছিল বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তবে মহুয়ার স্পষ্ট দাবি, আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি যে আবেদন করেছিলেন, তা যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশকেই এবার উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

মহুয়ার বিরুদ্ধে মূলত বেশ কয়েকটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছিল। কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বাসিন্দা ছয় জন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, তুলসি মালা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মহুয়া মৈত্রের কিছু মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমে করা ‘অপারেশন সিঁদুর’ সংক্রান্ত তাঁর মন্তব্যও সেনাকে অসম্মান করেছে বলে অভিযোগ করেন এক অভিযোগকারী।

অন্যদিকে, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মহুয়া মৈত্র জানিয়েছেন যে তিনি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা BNSS-এর ২২৮ ধারায় সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এই ধারার নিয়ম অনুযায়ী, অভিযুক্ত নিজে আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করার অনুমতি চাইতে পারেন। তাঁর দাবি, প্রথম দুটি হাজিরার দিন তিনি সংসদের অধিবেশনে ব্যস্ত ছিলেন এবং সেই সময় কৃষ্ণনগর বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীদের ‘বয়কট’ চলায় তাঁর পক্ষে হাজিরা দেওয়া সম্ভব ছিল না। পরবর্তীতে আইনজীবীদের বয়কট শেষ হওয়ার পর তাঁর আইনজীবী আদালতে হাজিরা দিয়ে অব্যাহতির আবেদন জানালেও, সেই আবেদন নিষ্পত্তি না করেই আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এখন এই আইনি লড়াইয়ে হাই কোর্ট কী রায় দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *