ডিভোর্সের ঠিক আগেই ভয়াবহ কাণ্ড! স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা, হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী

সংবাদ সম্পাদক ডেস্ক: সম্পর্ক শেষ হতে আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা বাকি ছিল। পরের দিনই ডিভোর্স পাওয়ার কথা ছিল স্ত্রীর। কিন্তু তার আগেই লখনউয়ের এক ব্যাঙ্ক অফিসারের চরম সিদ্ধান্তের জেরে প্রাণ হারালেন তাঁর স্ত্রী ও বোন। বৃহস্পতিবার বিকেলে লখনউয়ের গোমতি নগর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। মৃতদের নাম মানস বাজপেয়ী (৩৫), তাঁর স্ত্রী দিব্যা মিশ্র (৩৩) এবং বোন শিবা।

ঘটনার সূত্রপাত ও সিসিটিভি ফুটেজ
অভিযুক্ত মানস বাজপেয়ী এসবিআই-এর ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি গাড়ি চালিয়ে সটান চলে যান আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের সেই শাখায়, যেখানে তাঁর স্ত্রী দিব্যা রিলেশনশিপ ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। দিব্যাকে ফোন করে অফিসের বাইরে ডাকেন মানস। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কথোপকথনের মাঝেই দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপরই প্রকাশ্যে দিব্যাকে গুলি করেন মানস। গুলির শব্দে অফিসের নিরাপত্তা রক্ষী ও কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন।

হত্যার পর ‘হনুমান চালিসা’ ও চূড়ান্ত পরিণতি
স্ত্রীকে গুলি করার পর মানস সোজা নিজের বাড়িতে চলে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সে সময় মানস প্রচণ্ড ঘামে ভেজা ছিলেন। বাড়িতে ঢুকে দরজা আটকে তিনি টেলিভিশনের ভলিউম বাড়িয়ে উচ্চ স্বরে ‘হনুমান চালিসা’ বাজাতে শুরু করেন। এরপর মানস মানসিকভাবে অসুস্থ নিজের বোন শিবাকে গুলি করে হত্যা করেন। অবশেষে নিজেও আত্মঘাতী হন তিনি। গুলির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ভাই-বোনের রক্তমাখা দেহ উদ্ধার করেন।

হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি
স্ত্রীকে হত্যার পরেই মানস নিজের হোয়াটসঅ্যাপে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি কারণ সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। এখন আমাকে নিজেকে এবং বোনকেও শেষ করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, দিব্যার বোন প্রজ্ঞা এবং তাঁর স্বামী ভরত যাদব পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

বিচ্ছেদের কালো ছায়া
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে মানস ও দিব্যার বিয়ে হয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যে কোনো সন্তান ছিল না। সম্পর্কের টানাপোড়েনে এক বছর আগেই মানসের বিরুদ্ধে ডিভোর্সের মামলা দায়ের করেছিলেন দিব্যা। এরপর তিনি নিজের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক অশান্তির এই মামলা শেষ পর্যন্ত যে এমন নৃশংস পরিণতির দিকে গড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *