মশলাদার খাবারে কি সত্যিই লুকিয়ে বড় বিপদ? জিভে জল আনা খাবার খাওয়ার আগে এই মারাত্মক সত্যিটা জানেন কি?

খাবারের পাতে একটু লাল লঙ্কা বা চটপটা মশলা না থাকলে বাঙালির যেন ঠিক মন ভরে না। মুখের স্বাদ বাড়াতে এবং রান্নার সুবাস আনতে লঙ্কা ও নানা পদের মশলা আমাদের দৈনন্দিন ডায়েটের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, জিভের সাময়িক তৃপ্তি মেটাতে গিয়ে অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাদার খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ভেতর থেকে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
খাবারে থাকা লঙ্কার ঝাল বা তীব্র অনুভূতির মূল কারণ হলো ‘ক্যাপসাইসিন’ নামক একটি রাসায়নিক উপাদান। আমরা যখনই ঝাল খাবার খাই, তখন এই ক্যাপসাইসিন শরীরের বিশেষ রিসেপ্টরগুলিকে সক্রিয় করে তোলে, যার ফলে তীব্র তাপ ও জ্বালাপোড়ার অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, এই ঝাল হজম করার ক্ষমতা সবার শরীরের সমান হয় না।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লঙ্কা বা মশলাদার খাবার গ্রহণের ফলে পাকস্থলী এবং সমগ্র হজমতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়ার ফলে প্রথমে মুখ ও গলায় তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে বুকজ্বালা, পেটের অস্বস্তি এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি যাঁদের পেট কিছুটা সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ধরনের খাবার ডায়রিয়া বা তীব্র পেটের গোলযোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবারে ঝালের পরিমাণ সবসময় নিজের সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী রাখা উচিত। বিশেষ করে প্যাকেটজাত হট সস বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ফাস্টফুড এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। খাওয়ার পর যদি নিয়মিত পেটে ব্যথা, বুকজ্বালা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে লঙ্কা ও মশলার ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া উচিত। জিভের স্বাদের সঙ্গে শরীরের সুস্থতার ভারসাম্য বজায় রাখতে তাই এখন থেকেই সচেতন হওয়া একান্ত প্রয়োজন।