“দুর্গাপুজোয় টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা”-সুপার এল নিনোর দাপটে পণ্ড হতে পারে আনন্দ!

চলতি বছরে দুর্গাপুজোর আনন্দে ফের একবার বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসেই তার পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করতে চলেছে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’। যার সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে পুজোর ঠিক মুখেই। এর জেরে পুজোমণ্ডপে ঘোরাঘুরি তো বটেই, উৎসবের গোটা দিনগুলিতেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। শুধু লাগাতার বৃষ্টিপাতই নয়, পুজোর ঠিক এই সময়টিতে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনাও প্রবলভাবে উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ ড. সুজীব করের মতে, সুপার এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাবে গোটা বিশ্ব তথা এই অঞ্চলের জলবায়ু ব্যবস্থায় এক বিরাট পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। এর ফলে সারা বছর ধরে অতিরিক্ত তীব্র গরম, টানা সাইক্লোনিক বৃষ্টিপাত এবং অতি সংক্ষিপ্ত শীতের মরশুম ছাড়া আর কিছুই দেখা যাবে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী দিনে আর আগের মতো মনোরম শরৎকালের অনুভূতি পাওয়া যাবে না। পুজোর দিনগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকবে এবং তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে চলতে পারে সাইক্লোনিক বৃষ্টি। এই ধরনের বৃষ্টির চরিত্র সাধারণ বর্ষার বৃষ্টির মতো হয় না, বরং এটি যেকোনো মুহূর্তে আকস্মিক অতিবৃষ্টি ঘটিয়ে নিমেষে নিম্নাঞ্চলগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার ওপর এই সুপার এল নিনোর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে বলতে গিয়ে ড. কর জানান, এর জেরে গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই এক ভয়াবহ খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর যখনই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামবে, তখন সেই অতিরিক্ত জলের জেরে প্লাবন বা বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কলকাতায় বর্ষার পরিমাণ আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি ‘হিট আইল্যান্ড’ সক্রিয় হয়ে ওঠার ফলে আগামী বছরে তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গে শীতের আমেজ আর ১৫ থেকে ২০ দিনের বেশি স্থায়ী হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের উল্টো চিত্র দেখা যাবে উত্তর ভারতে ও উত্তরবঙ্গে। আবহাওয়াবিদ জানাচ্ছেন, বর্তমানে একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ মধ্যপ্রদেশ তথা উত্তর ও মধ্য ভারতের ওপর অবস্থান করছে। এর ফলে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করছে। যার জেরে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশেও এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলবে। মাঝে মাঝে দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বা মাঝারি বৃষ্টি হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।