স্কুলের ফি-র টাকা হাতাতে শিক্ষিকাকে কুপিয়ে খুন! দুই ছাত্রের কীর্তিতে শিউরে উঠল এলাকা

স্কুলের প্রিন্সিপালকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় নালগোন্ডা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। নিহত রূপা রেড্ডি নাগার্জুন পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১১ অগস্ট হায়দরাবাদ থেকে ফিরে আসার রাতেই নিজের বাড়িতে খুন হতে হয় তাঁকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ছক কষেছিল স্কুলেরই দুই ছাত্র।
পরিকল্পনা ছিল পাঁচ দিন আগেই পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুলের ফি সংগ্রহের সময় হওয়ায় প্রিন্সিপালের বাড়িতে প্রচুর নগদ টাকা থাকতে পারে—এই ধারণা থেকে পাঁচ দিন আগেই ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা। ঘটনার দিন, ১১ অগস্ট অভিযুক্ত দুই নাবালক ছাত্র প্রিন্সিপালের বাড়িতে হানা দেয়। তাদের মধ্যে একজন দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তার মুখোশ খুলে যায়। প্রিন্সিপাল রূপা রেড্ডি ছাত্রটিকে চিনে ফেলায়, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়েই সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁকে ২৭ বার কোপায় অভিযুক্ত। নৃশংস খুনের পর বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা? খুনের তদন্তে নেমে পুলিশ পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করে এবং এলাকার প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা খতিয়ে দেখে। স্কুল খোলার পর টানা চারদিন অনুপস্থিত থাকা ১৩ জন ছাত্রের ওপর নজরদারি চালানো হয়। তখনই পুলিশ জানতে পারে, দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের আচমকা টাকার জোগান এবং বিলাসিতা করার ধরন সন্দেহজনক। জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই খুনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযুক্তদের একজনের কাছ থেকে ১.৫৪ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নোটগুলিতে রক্তের দাগ মেলায় তা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়, যেখানে সেটি মানুষের রক্ত হিসেবেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিশোধের আগুন? তদন্তে আরও উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্তদের একজন ওই স্কুলেরই আবাসিক ছাত্র ছিল। আগে তার ব্যাগে টাকা ও মোবাইল পাওয়ায় প্রিন্সিপাল তাকে কঠোর ভর্ৎসনা করেছিলেন এবং তাকে আর হোস্টেলে রাখা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। অধ্যক্ষার ওপর সেই ক্ষোভ এবং টাকার লোভ—এই দুইয়ের কারণেই সে ডাকাতির পথ বেছে নেয়। অভিযুক্তরা নাবালক হওয়ায় তাদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নালগোন্ডার পুলিশ সুপার শরৎচন্দ্র পাওয়ার।