১০ কোটি পর্যন্ত জামানতহীন ঋণ আর ডিজিটাল বাজারের সুযোগ! দিল্লির এমএসএমই-গুলির জন্য বিরাট পদক্ষেপ

দিল্লির ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলিকে (MSME) আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি ‘রেইজিং অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেটিং এমএসএমই পারফরম্যান্স স্কিম’ (RAMP)-এর অধীনে আয়োজিত এক মেগা ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে দিল্লির ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৩০ হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ীকে আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। সরকারের এই পদক্ষেপে রাজধানীর অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিল্লি স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (DSIDC)-র আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে আধুনিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি, প্রায় ১০ হাজার ব্যবসাকে GeM ও ONDC-র মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

অর্থনৈতিক উন্নতির ৪টি স্তম্ভ এমএসএমই সেক্টরকে দিল্লির অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নীতি, প্রক্রিয়া, কর্মক্ষমতা এবং অংশীদারিত্ব—এই চার স্তম্ভের ওপর জোর দিয়েই ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যাতে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দিল্লির পণ্য সারা দেশ তথা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে যেতে পারে, তার জন্যই এই বিশেষ উদ্যোগ।

ঋণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় জোর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কাটাতে দিল্লি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম (DKGS)-এর সফল রূপায়ণের কথা তুলে ধরা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলি জামানত ছাড়াই ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুবিধা পাচ্ছে, যেখানে সরকার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্রেডিট গ্যারান্টি প্রদান করছে। চলতি অর্থবছরে ইতিমধ্যেই ৪,৮০৬ কোটি টাকার গ্যারান্টি মঞ্জুর করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দিল্লির শিল্পমন্ত্রী সর্দার মনজিন্দর সিং সিরসা জানান, শিল্পখাতের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ পরিকাঠামো উন্নত করতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৭০০ কোটি টাকার কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিল্প সংক্রান্ত বহুদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান এবং ব্যবসাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকারের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা রাজধানীর অর্থনৈতিক মানচিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *