দিল্লির হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ! ১৯৮৪-র শিখ বিরোধী দাঙ্গার অভিযুক্ত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সাজ্জন কুমার প্রয়াত

প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাজ্জন কুমার প্রয়াত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

চলতি বছরের শুরুতে রাউস অ্যাভিনিউ আদালত ১৯৮৪ সালের একটি দাঙ্গা মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস করেছিল। জনকপুরীতে সোহন সিং ও তাঁর জামাই অবতার সিংকে হত্যার অভিযোগ এবং বিকাশপুরীতে গুরচরণ সিংকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় এই রায় দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আদালত জানিয়েছিল, ঘটনাস্থলে সাজ্জন কুমারের উপস্থিতি বা অপরাধের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগসূত্র প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েতে অংশগ্রহণ, প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলেনি বলেও পর্যবেক্ষণ ছিল আদালতের।

তবে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানান ১৯৮৪ সালের হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তি, মনজিৎ সিং। চলতি বছরের মে মাসে দিল্লি হাইকোর্ট সাজ্জন কুমারকে নোটিসও পাঠায়। বিচারপতি প্রতিভা এম সিং ও বিচারপতি মধু জৈনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিল। কিন্তু তার আগেই তাঁর প্রয়াণে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

১৯৮৪ সালের হিংসা ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ-বিরোধী হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি জি পি মাথুর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠিত হয় এবং ১১৪টি মামলা পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই তদন্তের আওতাতেই সাজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে পুরোনো মামলাগুলি নতুন করে সামনে আসে।

জনকপুরী ও বিকাশপুরী সংক্রান্ত এই ঘটনাগুলির এফআইআর দায়ের হয়েছিল ১৯৯২ সালে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের অগস্টে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে খুনের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, শিখ-বিরোধী দাঙ্গা সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় সাজ্জন কুমার এর আগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আবেদন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন ছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *